নয়াদিল্লি, ১১ জুলাই (আইএএনএস): পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)-এর হয়ে কাজ করা শাহজাদ ভাট্টি ভারতে বড়সড় নিয়োগ অভিযান চালিয়ে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে। একসময়ের সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ভাট্টিকে ভারতীয় যুবকদের মাদক পাচার, সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ, টার্গেট কিলিং-সহ বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে ভাট্টি ধাপে ধাপে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যুবকদের নিয়োগ করছে। নিরাপত্তা সংস্থার নজর এড়াতে সে এক সময়ে একটি নির্দিষ্ট রাজ্যকে লক্ষ্য করে কাজ করে এবং নজরদারি বাড়লেই অন্য রাজ্যে কার্যক্রম সরিয়ে নিয়ে যায়। কয়েক মাস আগে তার তৎপরতার কেন্দ্র ছিল উত্তরপ্রদেশ। পরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সক্রিয় হওয়ায় সে মহারাষ্ট্রে নেটওয়ার্ক বিস্তার শুরু করে।
এক গোয়েন্দা আধিকারিকের দাবি, ভাট্টির নেতৃত্বাধীন আইএসআই-সমর্থিত নেটওয়ার্ক গোটা দেশে একযোগে নিয়োগ না করে রাজ্যভিত্তিক কৌশল গ্রহণ করেছে, যাতে নিরাপত্তা সংস্থার নজর এড়ানো সহজ হয়।
তদন্তকারীদের মতে, গত ছয় মাসে উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বহু বেকার ও আর্থিকভাবে দুর্বল যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভাট্টির নেটওয়ার্ক। মাত্র ৫,০০০ টাকার মতো অর্থের প্রলোভন দেখিয়েই তাঁদের বিভিন্ন কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
গোয়েন্দাদের দাবি, প্রথমেই কাউকে জঙ্গি কার্যকলাপের কথা জানানো হতো না। কারণ, তা জানালে অধিকাংশই পিছিয়ে যেতে পারতেন। পরিবর্তে সহজে অর্থ উপার্জনের লোভ দেখিয়ে প্রথমে ছোটখাটো কাজ দেওয়া হতো। এর মধ্যে অল্প পরিমাণে মাদক বা অস্ত্র পাচার এবং সংবেদনশীল এলাকার তথ্য সংগ্রহের মতো কাজ ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এক আধিকারিকের কথায়, প্রথম দফার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করলে এবং নিরাপত্তা সংস্থার নজরে না এলে ওই যুবকদের বেশি অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ধাপে ধাপে আরও গুরুতর এবং শেষ পর্যন্ত জঙ্গি-সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল।
তদন্তকারীদের দাবি, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানায় ভাট্টির নেটওয়ার্ক মূলত নিম্নআয়ের মানুষদের লক্ষ্য করেছিল। বিরিয়ানি বিক্রেতা, ক্ষুদ্র ঋণদাতা, সবজি বিক্রেতার মতো পেশার মানুষেরাও এই নিয়োগ অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বলে অভিযোগ। প্রথমে তাঁদের ছোট আগ্নেয়াস্ত্র বা গাঁজা পাচারের মতো কাজ দেওয়া হতো, যা ছিল তাঁদের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের একটি কৌশল।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ভাট্টির পরিকল্পনা সর্বভারতীয়। মহারাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই শতাধিক যুবক নিরাপত্তা সংস্থার নজরদারিতে রয়েছেন। মহারাষ্ট্র অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস)-এর তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে, অনলাইন প্রচার, আর্থিক প্রলোভন এবং অপপ্রচারের মাধ্যমে ভাট্টি ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন রাজ্যে নিয়োগ নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছিল।
তদন্তকারী সংস্থার মতে, এই নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, একটি রাজ্যে নজরদারি কড়া হলেই ভাট্টি অন্য রাজ্যে কার্যক্রম স্থানান্তর করে নতুন করে নেটওয়ার্ক গড়ার চেষ্টা করছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত জঙ্গি মডিউল তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এই নিয়োগ অভিযান চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে সে।
























