মোরাদাবাদ, ১১ জুলাই (আইএএনএস): শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দির এবং ভগবান শ্রীরামকে নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার শুধু হিন্দুদেরই রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আধ্যাত্মিক নেতা আচার্য প্রমোদ কৃষ্ণম। তাঁর দাবি, রামমন্দির নির্মাণে কখনও সমর্থন না দেওয়ায় বিরোধীদের এ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনও নৈতিক অধিকার নেই।
শনিবার আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আচার্য প্রমোদ কৃষ্ণম বলেন, “শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দির এবং ভগবান শ্রীরাম সম্পর্কে কথা বলার অধিকার শুধুমাত্র হিন্দুদেরই রয়েছে। বিরোধীরা কখনও রামমন্দির নির্মাণকে সমর্থন করেনি। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করার তাদের কোনও অধিকার নেই।”
বিরোধী দলগুলিকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রামমন্দির ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে।
তাঁর কথায়, “কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি-সহ গোটা বিরোধী শিবির হিন্দুদের বিভ্রান্ত ও বিভক্ত করে ২০২৭ সালের নির্বাচন জিততে চাইছে। তারা মনে করছে, হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে তাদের পক্ষে নির্বাচনে জয়ী হওয়া সম্ভব হবে না।”
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ‘আগের সরকারগুলি মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা করত’ মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে আচার্য প্রমোদ কৃষ্ণম বলেন, “নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, সমাজবাদী পার্টি ততই হিন্দুদের বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। মন্দিরে হামলা করা সমাজবাদী পার্টির অভ্যাস ছিল। তাই মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন, তা সঠিক।”
সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবের ‘সনাতন ধর্ম ও সমাজতন্ত্র একই’ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “অখিলেশ যাদবের সমাজতন্ত্রের আদর্শের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। রাম মনোহর লোহিয়ার সঙ্গে অখিলেশ যাদবের সম্পর্ক ঠিক যেমন মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে রাহুল গান্ধীর সম্পর্ক।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ‘বন্দে মাতরম্’ সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “‘বন্দে মাতরম্’ ভারতের আত্মার কণ্ঠস্বর। এই স্লোগান দিয়েই আমরা স্বাধীনতার লড়াই করেছি। এটি প্রত্যেক ভারতীয়ের গর্ব। যে ভারতকে ভালোবাসে এবং ভারতের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে অবশ্যই ‘বন্দে মাতরম্’ বলবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই নির্দেশিকা দেশের ঐক্য ও ভারতীয়ত্বের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করবে।”
অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাজিদ রশিদির বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আচার্য প্রমোদ কৃষ্ণম বলেন, “ইসলাম নারীদের সম্মান করতে শেখায়। কিন্তু মৌলানা রশিদি সম্ভবত সেই শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত নন। আগে তাঁর প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে জানা উচিত। তা হলে তিনি বুঝতে পারবেন নারীদের কীভাবে সম্মান করতে হয়।”
ওয়াকফ কমিটিতে অমুসলিম সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, “ভারতের সংবিধানের অধীনে গঠিত যে কোনও বোর্ড দেশের সম্পদ। সেই বোর্ডে কাজ করার এবং সদস্য হওয়ার অধিকার প্রত্যেক ভারতীয়ের রয়েছে।”



















