News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • রাজনীতিতে সাফল্য এলেই হিংসা তৈরি হয়, প্রতিকূলতার সামনে হার মানলে চলবে না: মোহন ভাগবত
Image

রাজনীতিতে সাফল্য এলেই হিংসা তৈরি হয়, প্রতিকূলতার সামনে হার মানলে চলবে না: মোহন ভাগবত

নাগপুর, ২ জুলাই (আইএএনএস): রাজনীতিতে কারও সাফল্য অনেক সময়ই অন্যদের মধ্যে হিংসার জন্ম দেয় বলে মন্তব্য করলেন মোহন ভাগবত। একইসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দৃঢ়ভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।

বৃহস্পতিবার নাগপুরে সিন্ধু এডুকেশন সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরএসএস প্রধান বলেন, “মানবতার প্রতি আমাদের বার্তা হওয়া উচিত, শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্যও বাঁচতে হবে। সততার সঙ্গে জীবনযাপন করতে হবে এবং কথায় নয়, নিজের কাজের মাধ্যমে অন্যদের সেই শিক্ষা দিতে হবে।”

ভগবদ্গীতা-য় অর্জুন-কে শ্রীকৃষ্ণ যে উপদেশ দিয়েছিলেন, তার উল্লেখ করে মোহন ভাগবত বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির সামনে কখনও ভেঙে পড়া বা পালিয়ে যাওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, “গীতায় ভগবান অর্জুনকে বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া তোমার জন্য অসম্মানের। লড়ে জিতলে সম্পদ অর্জন করবে, আর কর্তব্য পালন করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করলে এমন মোক্ষ লাভ করবে, যা বড় বড় যোগীরাও পান না।”

আরএসএস প্রধানের কথায়, “জীবনে দৃঢ় থাকা, প্রয়োজনে লড়াই করা বা নিজের অবস্থানে অনড় থাকার মধ্যে কোনও ভুল নেই। আবার হার, হতাশা বা ব্যর্থতাও জীবনেরই অংশ। একটি দরজা বন্ধ হলে অন্য একটি দরজা খুলে যায়। খারাপ সময় চিরস্থায়ী নয়।”

শিক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পেট চালানোর জন্য শিক্ষা প্রয়োজন, কিন্তু সেটাই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। অনেকেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই বড় হন এবং শিক্ষিত মানুষকে কাজ দেন। প্রকৃত শিক্ষা হল জ্ঞান অর্জন। সেই শিক্ষা শুরু হয় পরিবার থেকে এবং মায়ের কাছ থেকেই প্রথম শিক্ষা পাওয়া যায়।”

দেশভাগের প্রসঙ্গ টেনে মোহন ভাগবত বলেন, দেশভাগের সময় বহু মানুষ সবকিছু হারিয়েও ভেঙে পড়েননি। তাঁরা নতুন করে জীবন গড়ে তুলেছিলেন।

তিনি বলেন, “মানুষের ভাগ্যকে মেনে নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। চেষ্টা করলে পরিস্থিতি বদলায়। অপেক্ষা করতে হবে, লড়াই করতে হবে। যে লড়াই করে, সে কিছু না কিছু অর্জন করেই। তাই জীবনে কখনও আশা হারানো উচিত নয়।”

দেশভাগের সময় বাস্তুচ্যুত মানুষদের প্রসঙ্গে আরএসএস প্রধান বলেন, “তাঁরা তাঁদের উপার্জন, সম্পত্তি, ব্যবসা, চাষবাস—সবকিছু ছেড়ে ভারতে এসেছিলেন। তাঁদের উদ্বাস্তু বলা ঠিক নয়, তাঁরা ছিলেন বাস্তুচ্যুত মানুষ। সেই সময় ভুল শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “তাঁরা ছিলেন যোদ্ধা। মাতৃভূমি এবং ধর্মের প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাঁরা ভারতে এসেছিলেন। ভারতকে অখণ্ড রাখার লড়াইয়ে আমরা সবাই হেরেছিলাম। কিন্তু তাঁরা সম্পত্তি বা ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, দেশ ও ধর্মকেই বেছে নিয়েছিলেন। পরিস্থিতি বদলায়, মর্যাদা আসে-যায়, কিন্তু আদর্শ অটুট থাকে।”

Releated Posts

পূজার অ্যাডভান্সের দাবিতে আইজিএম হাসপাতালে বিক্ষোভ ডিআরবি কর্মীদের

আগরতলা: দুর্গাপূজার আগে অ্যাডভান্সের দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হলেন আইজিএম হাসপাতালের ডিআরবি কর্মীরা। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অবিলম্বে…

ByByReshmi Debnath Oct 1, 2026

পাঁচ বছর ধরে বিধবা ভাতা অধরা, অসুস্থ বৃদ্ধা শাশুড়ির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন পুত্রবধূর

জম্পুইজলা, ২৭ সেপ্টেম্বর:  স্বামীর মৃত্যুর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি বিধবা ভাতা। বয়স ৭০ বছর, শারীরিক অসুস্থতায় জর্জরিত।…

ByByReshmi Debnath Sep 27, 2026

১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ত্রিপুরায় মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১৪ সেপ্টেম্বর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ত্রিপুরায় শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প…

ByByTaniya Chakraborty Sep 14, 2026

সরকারি অফিস নির্মাণের জন্য চা গাছ কাটার অভিযোগ, চা বাগানে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

আগরতলা, ৯ সেপ্টেম্বর: সরকারি অফিস নির্মাণের জন্য জমি পরিষ্কারের নামে বোল্ডোজার দিয়ে চা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র…

ByByTaniya Chakraborty Sep 9, 2026
Scroll to Top