নয়াদিল্লি, ১২ জুলাই (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সফরকে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত, প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সফরে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ইউরেনিয়াম সরবরাহ, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়া ভারতের কাছে ইউরেনিয়াম রপ্তানিতে অনীহা দেখালেও এবার দুই দেশের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া কার্যকর হয়েছে। এর ফলে ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচিতে অস্ট্রেলিয়ার ইউরেনিয়াম ব্যবহারের পথ আরও সুগম হবে। ভারত আগামী দিনে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়া সফরে দুই দেশের মধ্যে ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘অস্ত্র’ এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে ফিলিপিন্স ও ভিয়েতনামের পর ইন্দোনেশিয়াও ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ব্যবহারের পথে এগোল।
এছাড়া মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশমুখে অবস্থিত সাবাং বন্দর উন্নয়নে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে কাজ করবে। সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, বিশেষ করে নিকেল উৎপাদনেও দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
সফরকালে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো প্রধানমন্ত্রী মোদিকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক ও সামরিক সম্মান ‘বিনতাং আদিপূর্ণা’ প্রদান করেন। পাশাপাশি, যোগ্যাকার্তার ঐতিহাসিক প্রাম্বানান মন্দির সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণে ভারতের সহযোগিতার কথাও ঘোষণা করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কও আরও জোরদার হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ (সিইসিএ) দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে সম্মতি হয়েছে। পাশাপাশি, অস্ট্রেলিয়ানসুপার ভারতে ৫০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে, প্রায় চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নিউজিল্যান্ড সফরে দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), নতুন কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং ২০৩০ সালের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। এর আওতায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, সাইবার নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উভয় দেশ ৭০০ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করেছে।
সফরের সময় ভারতীয় নৌবাহিনী এবং নিউজিল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্সের মধ্যে পারস্পরিক লজিস্টিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সরকারি মহলের মতে, এই তিন দেশের সফরের মাধ্যমে ভারতের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।



















