চণ্ডীগড়, ১২ জুলাই (আইএএনএস): ‘সতলুজ’ ছবির নির্মাতারা “সৃজনশীল স্বাধীনতা”-র অজুহাত দেখিয়ে বিতর্কিত দাবিকে প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস হিসেবে তুলে ধরার দায় এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী রাভনীত সিং বিট্টু।
রবিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পাঞ্জাবের বেদনাদায়ক অতীত কোনও চিত্রনাট্য নয়, যা কোনও নির্দিষ্ট বক্তব্য প্রতিষ্ঠার জন্য বেছে বেছে সম্পাদনা করা যাবে।
ছবির নির্মাতা ও পরিচালকের কাছে তিনি দাবি করেন, ছবিতে দেখানো ২৫ হাজার নিখোঁজ বা বেআইনিভাবে দাহ করা মৃতদেহের সংখ্যার পক্ষে সম্পূর্ণ তথ্যচিত্র, সরকারি নথি, আদালতের রায় এবং প্রামাণ্য তথ্য প্রকাশ করা হোক।
বিট্টু প্রশ্ন তোলেন, “এই সংখ্যা যদি শুধুমাত্র অনুমান বা অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে সেটিকে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে কেন দেখানো হয়েছে? দর্শকদের কেন জানানো হয়নি যে কোনও চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তে এই সংখ্যা নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি?”
পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি বিট্টু বলেন, ১৯৯৫ সালে চণ্ডীগড়ে খালিস্তানি জঙ্গিদের হামলায় তাঁর দাদার হত্যার ঘটনাসহ পাঞ্জাবের সন্ত্রাসবাদ-পর্বের অন্য দিকগুলিও তুলে ধরা উচিত।
তিনি অভিযোগ করেন, ছবিতে পাঞ্জাবের অন্ধকার অধ্যায়ের একাংশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সন্ত্রাসবাদীদের হাতে নিহত নিরীহ হিন্দু, বাসযাত্রী, দোকানদার, সরকারি কর্মচারী, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের হত্যার বিষয়টি একই গুরুত্বে দেখানো হয়নি।
তিনি আরও প্রশ্ন করেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাঞ্জাব পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগকে কেন যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি? সন্ত্রাসী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার পরিবারের কথা কেন প্রায় অনুপস্থিত?”
বিট্টুর দাবি, বিতর্কিত তথ্যকে অভিযোগ, অনুমান এবং সরকারি ভাবে স্বীকৃত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য না দেখিয়ে উপস্থাপন করা ইতিহাস বিকৃতির সামিল।
তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদের সময় পাঞ্জাব ভয়াবহ মূল্য দিয়েছে। ধর্ম, সম্প্রদায় বা মতাদর্শ নির্বিশেষে প্রতিটি নিরপরাধ ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার ও স্মরণের অধিকারী।”
তিনি ‘সতলুজ’ ছবির নির্মাতাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ২৫ হাজার সংখ্যার পক্ষে প্রামাণ্য নথি প্রকাশের আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, “যদি তাঁরা বিশ্বাসযোগ্য ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে পাঞ্জাবের মানুষের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে যে এই সংখ্যা কোনও সরকারি ভাবে যাচাই করা হিসাব নয়।”
বিট্টু আরও জানান, দেশের সামনে ঐতিহাসিক তথ্যের ভুল উপস্থাপনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় আইনি ও সাংবিধানিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, “পাঞ্জাবের ইতিহাস বেছে নেওয়া গল্পের মাধ্যমে নতুন করে লেখা যায় না। সত্যকে প্রচারের উপর, তথ্যকে কল্পনার উপর এবং প্রমাণকে আবেগের উপর স্থান দিতে হবে।”



















