আমদাবাদ, ১২ জুলাই (আইএএনএস): গত সাত বছরে দেশের কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) ৭ কোটি গাছ রোপণ করেছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার আমদাবাদে এক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণে সাধারণ মানুষকেও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অমিত শাহ বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের আধাসামরিক বাহিনী গত সাত বছরে ৭ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য পূরণ করেছে।” তিনি জানান, এর পাশাপাশি দু’দিন আগে দিল্লি রিজ এলাকায় আরও ৪৩ লক্ষ গাছ রোপণ করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও দেশের সবুজায়ন বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচিগুলি নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এই অভিযানে এমন দেশীয় প্রজাতির গাছ বেছে নেওয়া হয়েছে, যেগুলি ভারতের পরিবেশের সঙ্গে উপযোগী এবং ১০০ বছরেরও বেশি সময় বেঁচে থাকতে সক্ষম।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, “আজ যে গাছ লাগাবেন, তার ছায়ায় আপনার নাতি-নাতনিরাও বসতে পারবে। আমরা সচেতনভাবেই এমন গাছ বেছে নিয়েছি, যেগুলির আয়ু এক শতাব্দীরও বেশি।”
তিনি আরও বলেন, বট ও অশ্বত্থের মতো গাছ শুধু কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণই করে না, পাখিদের খাদ্য ও আশ্রয় জোগানোর পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অমিত শাহ জানান, আমদাবাদে উদ্বোধন হওয়া অক্সিজেন পার্কগুলি প্রজাপতি-সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীরও আবাসস্থল হিসেবে গড়ে উঠবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘এক পেড় মা কে নাম’ (মায়ের নামে একটি গাছ) কর্মসূচির পর আমদাবাদে বৃক্ষরোপণ অভিযান গণআন্দোলনের রূপ নিয়েছে। গান্ধীনগর লোকসভা কেন্দ্রের ১ লক্ষ ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষ অনলাইনে নিবন্ধন করে পাঁচটি করে গাছ লাগানোর অঙ্গীকার করেছেন। বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তাঁদের কাছে চারাগাছ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, আমদাবাদের আরও দুটি লোকসভা কেন্দ্রের ২৮ হাজার ৫৪৪ জন বাসিন্দাও এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা, জলসেচ ও প্রয়োজনে নতুন চারা প্রতিস্থাপনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকেও ধন্যবাদ জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
উল্লেখ্য, রবিবার আমদাবাদে বৃহৎ সমন্বিত বৃক্ষরোপণ অভিযানের পাশাপাশি ১০১টি অক্সিজেন পার্ক এবং একাধিক নাগরিক পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।
























