অমরাবতী, ১২ জুলাই (আইএএনএস): ভিয়েতনামে নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণ হারানো ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের তিন বাসিন্দার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু।
রবিবার মুখ্যমন্ত্রী দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর (সিএমও) সূত্রে জানানো হয়েছে, নিহতদের মরদেহ দ্রুত তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে আধিকারিকরা জানান, দুর্ঘটনায় আহত গেলে কিশোর বর্তমানে ভিয়েতনামের একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বলেও মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়।
জানা গেছে, একটি মোবাইল ফোন সংস্থার উদ্যোগে ভারতের বিভিন্ন মোবাইল ফোন পরিবেশক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভিয়েতনামে একটি অবকাশযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সফরের সময় ফু কুয়ক দ্বীপের কাছে পর্যটকবাহী একটি নৌকা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
নৌকাটিতে মোট ৩২ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের তিনজন রয়েছেন। এছাড়া রাজ্যের আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আধিকারিকরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, ভিয়েতনামে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস মৃতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য একটি সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়েছে। মরদেহ হস্তান্তর ও পরিবহণের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
এছাড়া দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া পর্যটকদের রবিবার বিমানে করে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাই তাঁদের বিমানের টিকিটের ব্যবস্থা করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে অবস্থিত অন্ধ্রপ্রদেশ ভবনের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা নিরাপদে দেশে না ফেরা এবং মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে। পাশাপাশি, মরদেহ পরিবহণের বিষয়ে ভিয়েতনামে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, মন্ত্রী নারা লোকেশ এবং ভঙ্গলাপুড়ি অনিতা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন।
ঘটনার পরপরই মন্ত্রী নারা লোকেশ ভিয়েতনামে ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতির খোঁজ নেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি রিয়েল টাইম গভর্ন্যান্স সোসাইটি (আরটিজিএস)-কে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সমন্বয়ের নির্দেশ দেন।
অন্ধ্রপ্রদেশ সচিবালয়ের আরটিজিএস কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার বর্তমানে ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। এছাড়া ভিয়েতনামে ভারতীয় দূতাবাস, নয়াদিল্লির অন্ধ্রপ্রদেশ ভবন, অন্ধ্রপ্রদেশ নন-রেসিডেন্ট তেলুগু সোসাইটি (এপিএনআরটি) এবং সংশ্লিষ্ট ভিয়েতনামি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।



















