কৈলাসহর, ১২ জুলাই: টানা বর্ষণের জেরে মনু নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য নদীভাঙনের আশঙ্কার মধ্যেই বাঁধ মেরামতের জরুরি কাজকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে উনকোটি জেলার কৈলাসহর মহকুমার গৌরনগর আরডি ব্লকের লাঠিয়াপুরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ঠিকাদারি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একদিকে বাঁধ মেরামতের কাজ থমকে রয়েছে, অন্যদিকে কৈলাশহর-টিলাবাজার সড়কে অবরোধের ঘটনায় জনজীবনও ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন কাঁটাতারের ভেতরে মনু নদীর তীরবর্তী বাঁধের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর উনকোটি জেলার জেলাশাসকের নেতৃত্বে বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, ঠিকাদার আব্দুল মান্নানের দাবি, জলসম্পদ দপ্তরের (ডব্লিউআর) কৈলাশহর ডিভিশনের পক্ষ থেকে তাঁকে বাঁধ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সিমেন্ট ব্লক সরবরাহ ও স্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাটি ভরাটসহ অন্যান্য কাজের জন্য আরও কয়েকজন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তাঁর অভিযোগ, দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি নিজস্ব মজুত এবং অন্যান্য উৎস থেকে হাজার হাজার সিমেন্ট ব্লক সংগ্রহ করে প্রায় ১৮টি ট্রাকে করে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে পাঠান। কিন্তু লাঠিয়াপুরায় পৌঁছানোর পর কয়েকজন ব্যক্তি ট্রাকগুলির গতিরোধ করেন এবং সিমেন্ট ব্লক নামানোর কাজে বাধা দেন।
আব্দুল মান্নানের দাবি, পরিস্থিতির কথা জানিয়ে তিনি জেলা প্রশাসন, মহকুমা প্রশাসন এবং জলসম্পদ দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর রাতের দিকে তাঁকে ট্রাকগুলো ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কেন সরকারি নির্দেশে শুরু হওয়া কাজে বাধা সৃষ্টি হলো এবং কেন শেষ পর্যন্ত কাজ স্থগিত রাখতে বলা হলো, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। এদিকে বাঁধের কাজ আটকে দেওয়ায় রবিবার সকাল থেকে উক্ত এলাকায় রাস্তা অবরোধ করেন স্থানীয়রা।
ঠিকাদারের আশঙ্কা, সময়মতো বাঁধ সংস্কারের কাজ সম্পন্ন না হলে মনু নদীর ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, যার ফলে উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা ও নদীভাঙনের কবলে পড়তে পারে। তবে তিনি প্রশাসনের নির্দেশ মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান।
এদিকে, বাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রবিবার কৈলাশহর-টিলাবাজার সড়কে অবরোধে সামিল হন একাংশের মানুষ। অবরোধের ফলে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন।
বর্ষাকালে মনু নদীর ভাঙন নিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারি বিরোধ বা প্রশাসনিক জটিলতার ঊর্ধ্বে উঠে অবিলম্বে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হোক, যাতে সম্ভাব্য নদীভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি এড়ানো যায়। বর্তমানে গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে জেলা প্রশাসন।
























