আগরতলা, ১৪ জুলাই: ত্রিপুরা সরকারের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো নবনিযুক্ত ২৭ জন ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস (টিসিএস) আধিকারিকের জন্য উত্তরাখণ্ডের মুসৌরিতে অবস্থিত দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ন্যাশনাল একাডেমি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এলবিএসএনএএ)-এ ১০ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহার উদ্যোগে চালু হওয়া এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য রাজ্যের প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নবীন আধিকারিকদের জাতীয় পর্যায়ের সুশাসনের উৎকৃষ্ট অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত করে তোলা।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এলবিএসএনএএ-র অধিকর্তা তথা ত্রিপুরা ক্যাডারের জ্যেষ্ঠ আইএএস আধিকারিক শ্রীরাম তারানিকান্তি। তিনি নবনিযুক্ত আধিকারিকদের অভিনন্দন জানিয়ে সততা, স্বচ্ছতা, নিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন প্রশাসনিক আধিকারিকের দায়িত্ব শুধু প্রশাসনিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে নৈতিক নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, সহমর্মিতা এবং জনকল্যাণে অটল অঙ্গীকারও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এলবিএসএনএএ-র উপ-অধিকর্তা দীপ জগদীপ প্রশিক্ষণার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই বিশেষভাবে পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আধুনিক প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁদের সক্ষম করে তুলবে। যুগ্ম অধিকর্তা প্রিয়া মিশ্র প্রশিক্ষণসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, এতে জননীতি, জেলা প্রশাসন, নৈতিকতা, নেতৃত্ব, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ মোকাবিলা, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, সুশাসন, কেস স্টাডি, ক্ষেত্রসমীক্ষা এবং জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক আধিকারিক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মতো বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণরত আধিকারিকরা শ্রীরাম তারানিকান্তিকে ত্রিপুরার ঐতিহ্যের প্রতীক মাতা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দিরের একটি প্রতিকৃতি উপহার দেন। পাশাপাশি তাঁকে জিআই-স্বীকৃত মাতাবাড়ির পেড়া, ত্রিপুরার সুগন্ধি লেবু এবং সুবাসিত কালিকাসা চাল উপহার হিসেবে তুলে দেন, যা রাজ্যের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও কৃষি ঐতিহ্যের প্রতিফলন বহন করে।
প্রশিক্ষণার্থীরা এই কর্মসূচিকে দেশের সেরা প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থেকে শেখার এক বিরল সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে এই উদ্যোগের জন্য ত্রিপুরা সরকার ও এলবিএসএনএএ কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাঁরা অঙ্গীকার করেন, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও মূল্যবোধ কাজে লাগিয়ে ত্রিপুরার মানুষের জন্য দক্ষ, স্বচ্ছ ও জনমুখী প্রশাসন গড়ে তুলবেন।
























