ওয়াশিংটন, ১৪ জুলাই : হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ টোল আরোপের প্রস্তাব থেকে সরে দাঁড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার তিনি জানান, এর পরিবর্তে উপসাগরীয় (গালফ) দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য ও বৃহৎ বিনিয়োগ চুক্তির পথে এগোবে যুক্তরাষ্ট্র।
নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, উপসাগরীয় দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ওই দেশগুলি যুক্তরাষ্ট্রে “বৃহৎ বিনিয়োগ” করবে, যা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। ট্রাম্পের দাবি, এই বিনিয়োগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কারখানা, উৎপাদন কেন্দ্র ও শিল্প অবকাঠামো গড়ে উঠবে এবং লক্ষ লক্ষ উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
এর আগের দিন ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর “অভিভাবক” হিসেবে দায়িত্ব নেবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার খরচ বাবদ ওই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী সব পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ ফি আদায় করবে। তবে একদিনের মধ্যেই সেই অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি বিনিয়োগভিত্তিক সমঝোতার কথা ঘোষণা করেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সেনাবাহিনীর কারণেই হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন, সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করেন।
একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের বন্দর থেকে আসা বা ইরান-সম্পর্কিত পণ্য বহনকারী জাহাজের ওপর “পূর্ণ অবরোধ” বহাল থাকবে। তবে অন্যান্য দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে পারবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বা তদারকিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ভূমিকা তারা মেনে নেবে না।
ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব সতর্ক করে বলেছে, ইরানের অনুমতি ছাড়া মার্কিন বাহিনী ওই কৌশলগত জলপথে কোনও পদক্ষেপ নিলে তার “কঠোর জবাব” দেওয়া হবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বিষয়ে সহযোগিতা না করার জন্য আঞ্চলিক দেশগুলিকেও সতর্ক করেছে তেহরান।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যদিও ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষণায় টোলের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করা হয়েছে, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ বহাল রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন।
























