কলকাতা, ১৫ জুলাই(আইএএনএস) : তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মদন মিত্র বুধবার দাবি করেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের “হিটলারসুলভ মনোভাব”-এর কারণেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির ছেড়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা অভিযোগ করেছেন, প্রবর্তন নির্দেশালয় (ইডি)-র চাপের মুখেই তিনি শিবির বদল করেছেন।
আইএএনএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মদন মিত্র বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছিল না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হিটলারসুলভ মনোভাবের কারণে সবকিছু দমবন্ধ হয়ে উঠছিল। তিনি আরও বলেন, আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের পুরনো কর্মী। আমি দল ছাড়িনি, শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের সব সাংগঠনিক পদ ছেড়েছি। আমি এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই আছি।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র মদন মিত্রের দলবদল নিয়ে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। গতকালই তাঁর স্ত্রী ও ছেলেদের ইডি তলব করেছিল। তিনি ইডির সমনেই গিয়েছেন।
মহুয়া মৈত্র আরও বলেন, যিনি পরশু পর্যন্ত ঋতব্রত গোষ্ঠীকে আক্রমণ করছিলেন, আজ তিনিই গিয়ে ঋতব্রতর পাশে বসেছেন। এটা ইডির বিশেষ আমন্ত্রণেই হয়েছে। আমরা তাঁর সুস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের জন্য শুভেচ্ছা জানাই। ঋতব্রত গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর সময় ভালো কাটুক।
তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই সুরে বলেন, সাংসদ বা বিধায়কেরা তাঁদের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছেন। মদন মিত্রকে উদ্দেশ করে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, মানুষ সেখানে যায়, যেখানে তারা নিরাপদ ও স্বস্তিতে থাকতে পারে, যেখানে পুলিশ, সিবিআই বা ইডির চাপ থাকবে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সারা দেশেই এই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিজেপি যদি কাউকে নিজেদের দলে নিতে চায়, তাহলে আগে ইডি ও সিবিআইকে পাঠায়। এখানেও হয়তো তেমনটাই ঘটেছে।
এর আগে বুধবার মদন মিত্র শিবির পরিবর্তনের পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি, আগামী ২১ জুলাই কলকাতায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর শহিদ দিবসের কর্মসূচিতে তিনি যোগ দেবেন বলেও নিশ্চিত করেন।
























