অমরাবতী, ১৫ জুলাই (আইএএনএস): অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী ও কপু সম্প্রদায়ের প্রবীণ নেতা মুদ্রাগাডা পদ্মনাভমের শেষকৃত্যকে ঘিরে বুধবার পূর্ব গোদাবরী জেলার কাকিনাডার কিরলামপুডিতে তীব্র উত্তেজনা ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্য ও সমর্থকরা তাঁর মেয়ে বারলাপুড়ি ক্রান্তিকে বাবার মরদেহ স্পর্শ করতে বাধা দেন।
মঙ্গলবার অসুস্থতার পর হায়দরাবাদে প্রয়াত হন মুদ্রাগাডা পদ্মনাভম। পরে তাঁর মরদেহ কিরলামপুডির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর আগে তিনি নাকি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন যে, তাঁর মেয়ে যেন শেষকৃত্যে অংশ নিতে না পারেন।
২০২৪ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে জনসেনা প্রধান তথা বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণকে প্রকাশ্যে সমর্থন করার পর থেকেই বাবার সঙ্গে ক্রান্তির সম্পর্কের অবনতি হয়। ক্রান্তি পবন কল্যাণকে কপু সম্প্রদায়ের নেতা বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং পিথাপুরম আসনে তাঁকে পরাজিত করতে না পারলে নিজের নাম ‘পদ্মনাভম রেড্ডি’ রাখবেন—বাবার এই মন্তব্যেরও সমালোচনা করেছিলেন।
পিথাপুরমে পবন কল্যাণকে হারাতে ব্যর্থ হওয়ার পর মুদ্রাগাডা পদ্মনাভম নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘পদ্মনাভা রেড্ডি’ রাখেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বলে যান, মৃত্যুর পরও যেন তাঁর মেয়েকে তাঁর কাছে আসতে না দেওয়া হয়।
বুধবার সকালে ক্রান্তি সমর্থকদের নিয়ে কিরলামপুডির উদ্দেশে রওনা দিলে প্রতিপাডু এলাকায় পুলিশ তাঁর গাড়িবহর আটকে দেয়। পরে তিনি বাবাকে শেষবারের মতো দেখার অনুমতি চাইলে পুলিশ সমর্থকদের ছাড়া তাঁকে বাড়িতে যাওয়ার পরামর্শ দেয় এবং নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যায়।
তবে বাড়িতে পৌঁছতেই মৃত নেতার পরিবারের সদস্য ও সমর্থকরা তীব্র বিক্ষোভ দেখান। স্লোগান তুলে তাঁকে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ধস্তাধস্তির মধ্যেই পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি বাবার মরদেহের কাছে পৌঁছলেও ফ্রিজার কফিন স্পর্শ করতে দেওয়া হয়নি। ঘটনাস্থলে তাঁর মা-ও ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বামীর মৃত্যুর জন্য মেয়েকেই দায়ী করেন। প্রায় দু’মিনিট সেখানে থাকার পর ক্রান্তি সেখান থেকে চলে যান।
এদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার মুদ্রাগাডা পদ্মনাভমের শেষকৃত্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় কিরলামপুডিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা।
মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু এবং উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চারবার বিধায়ক, একবার লোকসভার সাংসদ এবং রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



















