নয়াদিল্লি, ১৪ জুলাই (আইএএনএস): পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (পিওজেকে) চলমান বিক্ষোভকে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত শোষণ, মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চনা এবং অবৈধ দখলদারিত্বের সরাসরি ফল বলে মন্তব্য করল ভারত। মঙ্গলবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল অভিযোগ করেন, জনগণের ন্যায্য দাবি মেটানোর পরিবর্তে পাকিস্তান প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশি বলপ্রয়োগ, খাদ্য ও ওষুধের সরবরাহে বাধা, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করছে।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে চলমান বিক্ষোভ পাকিস্তানের কয়েক দশকের পদ্ধতিগত শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলদারিত্বের সরাসরি পরিণতি।” তিনি আরও বলেন, স্থানীয় মানুষের ন্যায্য অভিযোগের সমাধান না করে পাকিস্তান সরকার অসহায় নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধেও নির্মম পুলিশি দমন চালাচ্ছে, খাদ্য ও ওষুধ-সহ জরুরি সরবরাহ বন্ধ করছে, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট জারি করছে এবং নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করছে, যার ফলে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক মহল পাকিস্তানের এই “গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপকর্মের” জন্য ইসলামাবাদকে জবাবদিহির আওতায় আনবে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন। প্রথমে বিদ্যুৎ, খাদ্য, পানীয় জল-সহ মৌলিক পরিষেবার দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধেই বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি রাওয়ালাকোটে এক সমাবেশে আন্দোলনের নেতা জাভেদ ইকবাল অভিযোগ করেন, গত ৭৮ বছর ধরে ‘শ্রীনগর মুক্তি’-র নামে মানুষের কাছে ভুয়ো প্রচার চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা আটা চাইলে গুলি পাই, বিদ্যুৎ চাইলে গুলি পাই, জল চাইলে গুলি পাই।”
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা স্লোগান তোলেন, “প্রতিটি শিশু শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়বে, কিন্তু কাশ্মীর (পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর) পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হবে না।”
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বিশেষ করে বহু নারী উচ্চ কর, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, দমননীতি এবং নির্বিচারে গ্রেফতারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন।
এদিকে, যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) ১৫ জুলাই মুজাফফরাবাদের উদ্দেশে একটি দীর্ঘ পদযাত্রার ডাক দিয়েছে এবং গোটা অঞ্চলজুড়ে মানুষকে ব্যাপক সংখ্যায় এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
–আইএএনএস
























