বেঙ্গালুরু, ১৪ জুলাই (আইএএনএস): বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে প্রস্তাবিত বিদাদি টাউনশিপ প্রকল্পের জন্য জমি সমীক্ষা ঘিরে হওয়া সহিংস বিক্ষোভের ঘটনায় ২০ জনের বেশি কৃষকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে কর্নাটক সরকার। মঙ্গলবার রাজস্ব দফতরের অভিযোগের ভিত্তিতে বিদাদি থানায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সরকারি কর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে তাঁদের সরকারি কাজ করতে বাধা দেন। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষকদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি পুলিশি নিরাপত্তায় পুনরায় জমি সমীক্ষা চালানোর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
সোমবার যৌথ পরিমাপ সমীক্ষা (জেএমসি) চলাকালীন কৃষক ও মহিলা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকারি আধিকারিকদের সংঘর্ষ বাধে। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে এই সমীক্ষা পরিচালিত হচ্ছিল।
অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েকজন কৃষক পাথর ছুড়ে সমীক্ষা দলের সদস্যদের তাড়া করেন, ফলে আধিকারিকদের সমীক্ষার কাজ মাঝপথে বন্ধ করে ফিরে যেতে হয়। পাশাপাশি কয়েকজন মহিলা বিক্ষোভকারী সরকারি গাড়িতে ঝাঁটা দিয়ে আঘাত করেন বলেও অভিযোগ।
ঘটনার পর জেলা প্রশাসন আপাতত সমীক্ষার কাজ স্থগিত করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রথমে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে কীভাবে ফের সমীক্ষা শুরু করা যায়, তারও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিদাদি এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
টাউনশিপ প্রকল্পের জন্য আর কোনও সমীক্ষা চালাতে না দেওয়ার লক্ষ্যে কৃষকেরা এলাকাজুড়ে নজরদারি চালাচ্ছেন। প্রায় ৫০০ দিন ধরে তাঁরা কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। তাঁদের দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জীবিকা সম্পূর্ণভাবে বিপন্ন হবে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প ও ইস্পাতমন্ত্রী এইচ.ডি. কুমারস্বামী অভিযোগ করেছেন, কর্নাটক সরকার কৃষকদের আন্দোলন দমনে পুলিশকে ব্যবহার করছে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের বিরোধিতা সত্ত্বেও হঠাৎ সমীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্তের পিছনে রাজ্য সরকারেরই “অদৃশ্য হাত” রয়েছে।
কুমারস্বামী কৃষক, মহিলা ও সাধারণ মানুষকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনও ধরনের সহিংসতায় না জড়িয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। তিনি আশ্বাস দেন, প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
পুলিশকেও রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার পরামর্শ দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনরত কৃষকদের ভয় দেখাতে পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ঘটনার দিন মোতায়েন পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সমীক্ষার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে রামনগরা জেলার পুলিশ সুপার শ্রীনিবাস গৌড়া ঘটনাস্থল মণ্ডলহল্লি গ্রামে পৌঁছে আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রামচন্দ্রাইয়া, ডিএসপি গিরিশ-সহ অন্যান্য আধিকারিকদের নিয়ে তিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করেন।
পুলিশ সুপার বিক্ষোভকারীদের সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার সতর্কবার্তা দেন।
উল্লেখ্য, উর্বর কৃষিজমি অধিগ্রহণ ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় বিদাদি টাউনশিপ প্রকল্পের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই কৃষকদের আন্দোলন চলছে। যদিও রাজ্য সরকারের দাবি, যৌথ পরিমাপ সমীক্ষা কেবলমাত্র জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ, তবুও আন্দোলনকারীরা প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাতিলের দাবিতে অনড় রয়েছেন।



















