আগরতলা, ১৪ জুলাই: খোয়াই ও ধলাই জেলাকে রাজধানী আগরতলার সঙ্গে সংযোগকারী একমাত্র প্রধান জীবনরেখা সুবলসিং পাহাড়ের জাতীয় সড়কের অবস্থা বর্তমানে চরম দুর্বিষহ। কর্দমাক্ত, খানাখন্দে ভরা এবং বিপজ্জনক এই অর্ধসমাপ্ত জাতীয় সড়কটি কার্যত সাধারণ মানুষের জন্য ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বেহাল দশা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানিয়ে এলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখন পর্যন্ত সমস্যার কার্যকর সমাধান মেলেনি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মাও। এর আগেও তিনি জাতীয় সড়কের অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা এবং জরুরি ভিত্তিতে সড়ক সংস্কারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে সেই উদ্যোগেরও এখনও পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ফল মেলেনি।
এদিকে খোয়াই-আগরতলা ভায়া সুবলসিং জাতীয় সড়ক প্রকল্পের বিলম্বের নেপথ্যে উঠে এসেছে একাধিক অনিয়ম ও খামখেয়ালিপনার অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এখন পর্যন্ত চার থেকে পাঁচজন ঠিকাদার নির্মাণকাজ মাঝপথে ছেড়ে রাজ্য ত্যাগ করেছেন। বর্তমানে নতুন একজন ঠিকাদার কাজ শুরু করলেও, টানা ভারী বর্ষণের কারণে নির্মাণকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এর জেরে দুর্ভোগে পড়েছেন প্রতিদিনের যাত্রীরা। খোয়াই থেকে আগরতলা পৌঁছাতে যেখানে আগে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগত, সেখানে এখন দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, রাস্তার বেহাল অবস্থার অজুহাতে অনেক প্রাইভেট গাড়িচালক যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, অন্যান্য যাত্রীবাহী গাড়িতেও বেলা সাড়ে তিনটার পর থেকে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। ফলে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াত আরও ব্যয়বহুল ও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টও শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “খোয়াই এবং আগরতলা অনেক দূরে—সুবলসিং থেকে বেলফং পর্যন্ত এখানকার মানুষের সমস্যা ও দুর্ভোগ অত্যন্ত তীব্র। আমি বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে চিঠি দিয়েছি এবং ত্রিপুরা বিধানসভার গত অধিবেশনেও জোরালোভাবে বিষয়টি উত্থাপনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
এখন দেখার বিষয়, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের পর জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য প্রশাসন এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সমস্যা সমাধানে কতটা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
























