ম্যাঙ্গালুরু (কর্নাটক), ১৩ জুলাই (আইএএনএস) : কর্নাটকের সাম্প্রদায়িকভাবে স্পর্শকাতর ম্যাঙ্গালুরু শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে তিন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে উরভা থানার পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান আরও জোরদার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ম্যাঙ্গালুরু সিটি পুলিশ কমিশনারেটের আওতাধীন সমস্ত থানায় অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের খোঁজে বিশেষ পরিচয় যাচাই অভিযান চলছে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবে কেপিটি-কুন্তিকানা এলাকার একটি নির্মীয়মাণ ভবনে কর্মরত শ্রমিকদের নথিপত্র যাচাইয়ের সময় ওই তিনজনকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃতরা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে স্বীকার করেছেন এবং বৈধ নথি ছাড়াই ভারতে অবস্থান করছেন বলেও জানিয়েছেন বলে পুলিশের দাবি। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই আরও কয়েকজন সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীর খোঁজ মিলেছে। বর্তমানে তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এর আগে সুরাথকলের মুক্কা এলাকায় নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কর্মরত প্রায় আটজন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিকের সন্ধান পেয়েছিল পুলিশ। তাঁদের মুক্কা হাসপাতাল চত্বরে তৈরি অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। সেখানে পুলিশ গোয়েন্দা শাখা এবং অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কতজন বাংলাদেশি ওই অঞ্চলে প্রবেশ করেছেন, ম্যাঙ্গালুরু জেলার অন্য কোথাও আরও কেউ লুকিয়ে রয়েছেন কি না এবং তাঁদের দেশে প্রবেশ, যাতায়াত ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা কারা করেছে। এছাড়াও, দালাল বা মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা, আর্থিক লেনদেন এবং স্থানীয় যোগাযোগের বিষয়েও তদন্ত চলছে।
প্রায় এক মাস আগে ম্যাঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার সুধীর কুমার রেড্ডি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কমিশনারেটের অধীনস্থ সমস্ত থানাকে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করতে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
পুলিশের সন্দেহ, ম্যাঙ্গালুরু শহর, সুরাথকল, কাটিপাল্লা, উল্লাল, বেঙ্গরে এবং ডাক্কে-সহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অভিবাসীরা বসবাস করছেন। তাঁদের অনেকেই নির্মাণ শিল্প, সড়ক প্রকল্প, ছোট-বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বন্দর-সংক্রান্ত কাজ এবং মৎস্য শিল্পে কর্মরত বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ কমিশনারের নির্দেশের পর শহরজুড়ে নথিপত্র যাচাই এবং তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী দিনগুলিতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি তাঁদের ভারতে প্রবেশ বা বসবাসে সহায়তাকারীদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
























