কলকাতা, ১৩ জুলাই (আইএএনএস) : পশ্চিমবঙ্গের তিনটি শূন্য রাজ্যসভা আসনে আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে চলা উপনির্বাচনের জন্য সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বিজেপির তিন প্রার্থী সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক।
তিনজনই এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। তবে গত মাসে নিজেদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁরা উচ্চকক্ষের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। ফলে ওই তিনটি আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। গত ৯ জুলাই বিকেলে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন। যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের রাজ্যসভা উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে বিজেপি।
সোমবার বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে তাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি ও রাজ্যসভার সদস্য শমীক ভট্টাচার্য-সহ দলের একাধিক নেতা।
বর্তমান বিধানসভার সংখ্যার নিরিখে বিজেপির তিন প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। বর্তমানে বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ২০৮। কোনও বিজেপি প্রার্থীকে পরাজিত করতে বিরোধী প্রার্থীর অন্তত ৭০টি ভোটের প্রয়োজন হবে।
সরকারিভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ৮০ হলেও, তার মধ্যে ৬০ জন বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ’ গোষ্ঠীর সঙ্গে রয়েছেন। বাকি ২০ জন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘মূল কিন্তু সংখ্যালঘু’ গোষ্ঠীর প্রতি অনুগত।
এদিকে, সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের বিজেপিতে যোগদান ও তাঁদের প্রার্থী করা নিয়ে রাজ্যের বিজেপির একাংশের পুরনো নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে কাউকে দলে না নেওয়ার যে অবস্থান বিজেপি নেতৃত্ব আগে নিয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত তার পরিপন্থী।
তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই তিন নেতার যোগদানকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত। তাঁর দাবি, তৃণমূলে থাকাকালীন তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনও অভিযোগ ওঠেনি এবং তাঁদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি পরিচ্ছন্ন ছিল।
























