আগরতলা, ১৩ জুলাই : ১১ মাসের শিশু ইপ্সিতার চিকিৎসার জন্য এই মুহূর্তে অর্থ সংগ্রহ না করার আবেদন জানালেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক। সোমবার তিনি জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ইপ্সিতাকে জিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার বিস্তারিত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু হয়েছে।
প্রতিমা ভৌমিক জানান, গত কয়েকদিন ধরে ইপ্সিতার পরিবার এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। নিউরোলজিস্ট ডা. আবিরলাল নাথ, ডা. অর্পণ মিত্র এবং শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সঞ্জিত দেববর্মার সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ দল শিশুটির চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করেছেন। একটি রিপোর্টে ‘এসএমএ’ উল্লেখ থাকলেও চিকিৎসকদের মতে, ইপ্সিতা আরও একাধিক জটিল স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে, যা নিশ্চিত করতে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।
তিনি জানান, বর্তমানে ১১ মাস বয়সী ইপ্সিতার ওজন মাত্র আড়াই কিলোগ্রামের কাছাকাছি, যা জন্মের সময়ের ওজনের প্রায় সমান। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটি মারাত্মক অপুষ্টিসহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত এবং তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গও প্রভাবিত হতে পারে। তাই সঠিক রোগ নির্ণয় এবং পুষ্টিগত অবস্থার উন্নতি করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিমা ভৌমিক বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে ইপ্সিতাকে জিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং সোমবার থেকেই তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে। প্রথমে রোগটি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা এবং শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটানোর দিকেই চিকিৎসকরা গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সামাজিক মাধ্যমে ইপ্সিতার চিকিৎসার জন্য অর্থ সাহায্যের আবেদন ছড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা অবশ্যই প্রয়োজন হতে পারে, তবে তার আগে রোগটি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। তাই এই মুহূর্তে কেউ যেন অর্থ সংগ্রহ বা অনুদান না দেন। ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানিয়ে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে সহায়তা চাওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে জিবি হাসপাতালে ইপ্সিতার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কয়েকজন ব্যক্তি শিশুটির তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে সহযোগিতা করছেন।
সাধারণ মানুষের সহমর্মিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রতিমা ভৌমিক বলেন, “ইপ্সিতা ও অনুশ্রী আমাদের পরিবারেরই সন্তান। সবাই যেভাবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। ভবিষ্যতে চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে কিংবা ইপ্সিতার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য এলে তা সবাইকে জানানো হবে।”
























