কলকাতা, ১৫ জুলাই(আইএএনএস) : রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রয়োজনে আবারও শূন্য থেকে পথচলা শুরু করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, নতুন করে লড়াই শুরু করতে তিনি মোটেই উদ্বিগ্ন নন।
তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত তিনটি গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। দাবি করা হচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এখন দলের “মূল” হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়।
অন্যদিকে, দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের সমর্থন পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দলের নবগঠিত জাতীয় কার্যকরী সমিতিতেও তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এবং সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে প্রবীণ বিধায়ক অরূপ রায়কে জাতীয় চেয়ারপার্সন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এছাড়া, সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায় সহ ২০ জন সাংসদ দল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে বুধবার ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের সময় যেমন শূন্য থেকে লড়াই শুরু করেছিলেন, প্রয়োজনে এবারও সেই পথেই হাঁটবেন।
তিনি বলেন, সদ্যসমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছেন দলের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক দেখে, যা তাঁরই সৃষ্টি। দলের অভ্যন্তরের “বিশ্বাসঘাতকদের” হয়ে তিনি ভোটারদের কাছে ক্ষমাও প্রার্থনা করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ১৯৯৭ সালে যখন তিনি নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন তিনি একাই ছিলেন। এখন তাঁর পাশে ২৮ জন সাংসদ এবং আরও বহু বিধায়ক রয়েছেন। তাই অতীতে যদি তিনি শূন্য থেকে শুরু করতে পারেন, তবে ২০২৬ সালেও একইভাবে নতুন করে লড়াই করতে পারবেন বলে তাঁর বিশ্বাস।
এদিকে, বিদ্রোহীদের সেই অভিযোগও তিনি খারিজ করে দেন যে, ভাইপো তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই তাঁরা দল ছেড়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেবল অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অভিষেক প্রতিকূলতার মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আগামী ৫০ বছরও মানুষের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। দলত্যাগীদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেউ লোভে, আবার কেউ ভয়ে দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।



















