আগরতলা, ১৫ জুলাই: ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. মানিক সাহা আগরতলার জিবি হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করার একদিন পরই হাসপাতাল প্রশাসন চিহ্নিত সমস্যাগুলির সমাধানে তৎপর হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং রোগী ও পরিজনদের সুবিধা নিশ্চিত করতে দ্রুত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জিবি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ড. বিধান গোস্বামী সংবাদমাধ্যমকে জানান, মুখ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের মাধ্যমে হাসপাতালের পরিকাঠামো ও রোগী পরিষেবার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যার বিষয় সামনে এসেছে, যেগুলির দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরিষেবার উন্নতির জন্য কাজ করে চললেও কিছু ক্ষেত্রে এখনও সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নষ্ট হয়ে যাওয়া আসবাবপত্র, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি, জল চুঁইয়ে পড়া, অকেজো ওয়াশ বেসিন এবং বিভিন্ন অংশে রং করার কাজ অসম্পূর্ণ থাকা।
মুখ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর এই বিষয়গুলি নিয়ে পূর্ত দপ্তরের মেডিক্যাল ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার, সাব-ডিভিশনাল অফিসার, আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ, ডেপুটি মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট, রেসিডেন্ট মেডিক্যাল অফিসার, নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান এবং অন্যান্য আধিকারিকদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করা হয়।
ড. গোস্বামী জানান, চিহ্নিত সমস্যাগুলির তালিকা পূর্ত দপ্তরের কাছে পাঠানো হয়েছে। দপ্তরের পক্ষ থেকে দ্রুত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে লাগাতার বৃষ্টির কারণে কিছু কাজ ব্যাহত হলেও ইতিমধ্যেই সংশোধনমূলক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
জরুরি পরিষেবার উন্নতির বিষয়ে মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট জানান, খুব শীঘ্রই ট্রমা সেন্টারে ফের চালু করা হবে ট্রায়াজ এরিয়া। এর আগে এই ব্যবস্থা চালু করা হলেও নার্সিং অফিসার ও মেডিক্যাল অফিসারের ঘাটতির কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জরুরি রোগীদের দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসার আওতায় আনতে ফের ট্রায়াজ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ড. গোস্বামী বলেন, রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে না থাকেন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। রোগীর পরিজনদের জন্য বসার ব্যবস্থা এবং পানীয় জলের সুবিধা সম্প্রতি তৈরি করা হয়েছে।
তবে এই সুবিধাগুলি সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়ার পর ডেপুটি মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ড. বিষ্ণু গোস্বামী এবং আরএমও ড. বিকাশ দেববর্মাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল চত্বরে চুরির ঘটনা প্রসঙ্গে ড. গোস্বামী জানান, বেশ কিছু এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার অভাবের কারণে দুষ্কৃতীরা সুযোগ পাচ্ছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
তিনি জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে সাদা পোশাকে নিরাপত্তাকর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। গত দুই মাসে প্রায় ১০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট আরও বলেন, হাসপাতালের উন্মুক্ত পরিবেশের কারণে সম্পূর্ণ নজরদারি করা কঠিন হলেও রোগী ও পরিজনদের নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়মিত টহল এবং সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।























