নয়াদিল্লি, ১৫ জুলাই (আইএএনএস): ভারত-যুক্তরাজ্যের মধ্যে স্বাক্ষরিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইটিএ) এবং সামাজিক সুরক্ষা চুক্তি কার্যকর হওয়াকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি “গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত” বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর মতে, এই দুই ঐতিহাসিক চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও গভীর করবে এবং ব্যবসা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের এক্স (প্রাক্তন টুইটার) পোস্ট শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত-যুক্তরাজ্য অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। সিইটিএ এবং সামাজিক সুরক্ষা চুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই চুক্তি দুই দেশের যৌথ আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তব রূপ দেবে। তাঁর কথায়, সিইটিএ ভারতের কৃষক, উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই)-কে নতুন গতি দেবে। পাশাপাশি ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাত যুক্তরাজ্যের বাজারে আরও সহজ প্রবেশাধিকার পাবে।
মোদি আরও বলেন, প্রযুক্তি, পেশাদার পরিষেবা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়বে। একই সঙ্গে দক্ষ ভারতীয় পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক চলাচল আরও সহজ হবে। সামাজিক সুরক্ষা চুক্তির ফলে যুক্তরাজ্যে অস্থায়ীভাবে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীরা উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবেন এবং ভারতীয় সংস্থাগুলির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, এই চুক্তি দুই গণতান্ত্রিক দেশের পারস্পরিক আস্থা এবং বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনভিত্তিক ভবিষ্যতমুখী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকারের প্রতিফলন। দুই দেশ যৌথ সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এই চুক্তিকে ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কার্যকর হওয়া এই চুক্তির ফলে ভারতের প্রায় ৯৯ শতাংশ রপ্তানি পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা মিলবে, যা মোট বাণিজ্য মূল্যের প্রায় ১০০ শতাংশকে অন্তর্ভুক্ত করে।
গোয়েলের দাবি, এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে বস্ত্র, চামড়া, রত্ন ও গয়না, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, সামুদ্রিক পণ্য, রাসায়নিক এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য-সহ একাধিক ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে এমএসএমই, কৃষক এবং উৎপাদন শিল্পও উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক পরিষেবা, শিক্ষা, পেশাদার ও ব্যবসায়িক পরিষেবা খাতের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্যে অস্থায়ীভাবে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীরা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত দ্বৈত সামাজিক সুরক্ষা অবদান (ডাবল সোশ্যাল সিকিউরিটি কন্ট্রিবিউশন) প্রদানের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাবেন, যা ভারতীয় সংস্থা ও কর্মীদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই চুক্তি ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি উদীয়মান বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



















