নয়াদিল্লি, ১৬ জুলাই : সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-তে ১০০-রও বেশি বিজ্ঞানীর পদত্যাগের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই পরিস্থিতির জেরে কেন্দ্র সরকার স্বেচ্ছা অবসর ও পদত্যাগ সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে গগনযান-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কর্মরত বিজ্ঞানীদের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
ইন্ডিয়া টুডে-র হাতে আসা ১৪ জুলাইয়ের একটি অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, গগনযান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত গ্রুপ ‘এ’ বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত কর্মীদের পদত্যাগ বা স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন আপাতত সংশ্লিষ্ট ইসরো কেন্দ্রগুলি গ্রহণ করবে না।
নথিতে আরও জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে পদত্যাগ ও স্বেচ্ছা অবসরের সমস্ত আবেদন সরাসরি ডিপার্টমেন্ট অব স্পেস-এর কাছে পাঠানো হবে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১০০ জন বিজ্ঞানী পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরই কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ। যদিও ডিপার্টমেন্ট অব স্পেস এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কতজন বিজ্ঞানী সংস্থা ছেড়েছেন, সেই সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
টাইমস অব ইন্ডিয়া-র প্রতিবেদনে ইসরো-র একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক মাসে ১০০ থেকে ১২০ জন বিজ্ঞানী পদত্যাগ করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুর ইউ আর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার (ইউআরএসসি) থেকে প্রায় ৮০ জন এবং কেরলের তিরুবনন্তপুরমের বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার (ভিএসএসসি) থেকে প্রায় ২০ জন বিজ্ঞানী সংস্থা ছেড়েছেন। সূত্রগুলির দাবি, মোট পদত্যাগের সংখ্যা ১২০-র কাছাকাছিও হতে পারে।
এদিকে, ব্যাপক পদত্যাগের বিষয়টি স্বীকার করে ইসরো-র চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংস্থা প্রস্তুত। তিনি বলেন, হ্যাঁ, অনেকেই সংস্থা ছেড়ে যাচ্ছেন। তবে এটি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই নির্দেশিকার উদ্দেশ্য শুধু কর্মীদের ধরে রাখা নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির কাজ যাতে হঠাৎ ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা। কেউ চলে গেলেও অন্য কেউ সেই দায়িত্ব নেবেন। আমরা বিষয়টি যথাযথভাবে সামলাচ্ছি।



















