ভোপাল, ১৭ জুলাই (আইএএনএস): মধ্যপ্রদেশের রেলযাত্রীদের জন্য আধুনিক পরিষেবা ও উন্নত সুযোগ-সুবিধার নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে। শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজ্যের ১৩টি পুনর্নির্মিত রেলস্টেশনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
‘অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প’-এর আওতায় দেশজুড়ে উন্নত করা ৭৫টি রেলস্টেশন জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করার বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই উদ্বোধন করা হবে।
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “মধ্যপ্রদেশ ধারাবাহিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। আজ টিকমগড় রেলস্টেশনের পুনর্নির্মাণের ভার্চুয়াল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমি অংশ নেব, যা সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদিজির ‘অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প’-এর অধীনে তৈরি হয়েছে। এই উপলক্ষে ১৮৯ কোটিরও বেশি টাকার উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।”
মধ্যপ্রদেশে যে ১৩টি স্টেশনকে আধুনিকীকরণ করা হয়েছে, সেগুলি হল—বিদিশা, সাঁচি, অশোকনগর, শিবপুরী, বেওহরি, ভিন্দ, হরপালপুর, ছত্তরপুর, টিকমগড়, জুনারদেও, বালাঘাট, ছিন্দওয়াড়া এবং নৈনপুর।
এই স্টেশনগুলির ব্যাপক পুনর্নির্মাণের ফলে এগুলি আধুনিক বিশ্বমানের পরিকাঠামোয় পরিণত হয়েছে, যেখানে কার্যকারিতার পাশাপাশি স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে।
উন্নত স্টেশনগুলিতে তৈরি হয়েছে আধুনিক স্টেশন ভবন, আকর্ষণীয় প্রবেশপথ, প্রশস্ত ও বাতাস চলাচলকারী অপেক্ষাকক্ষ, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার এবং উন্নত পানীয় জলের ব্যবস্থা।
যাত্রীদের সুবিধার জন্য বসানো হয়েছে ডিজিটাল যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা, এলইডি ডিসপ্লে, নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি নজরদারি, শক্তি সাশ্রয়ী আলো, প্রশস্ত ফুট ওভারব্রিজ এবং উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা।
বেশ কয়েকটি স্টেশনে লিফট ও এসকেলেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, র্যাম্পসহ বিভিন্ন সুবিধার মাধ্যমে প্রবীণ, মহিলা এবং বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের চলাচল আরও সহজ করা হয়েছে। স্টেশন চত্বরে উন্নত পার্কিং ব্যবস্থা, সুপরিকল্পিত যান চলাচল ব্যবস্থা এবং সবুজ এলাকা তৈরি করা হয়েছে।
‘অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প’-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে স্টেশনের নকশায় তুলে ধরা।
উদাহরণ হিসেবে, সাঁচি স্টেশনে এলাকার বিখ্যাত বৌদ্ধ ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিদিশা স্টেশনে তুলে ধরা হয়েছে তার ঐতিহাসিক পরিচয়।
অন্যান্য স্টেশনেও স্থানীয় স্থাপত্যশৈলী, শিল্পকলা এবং ঐতিহ্যবাহী নকশার ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা স্টেশনে নামার পরই এলাকার সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন।
পুনর্নির্মাণের ফলে টিকিট কাউন্টার, অপেক্ষাকক্ষ ও প্ল্যাটফর্মে যাতায়াত আরও সহজ হবে। ট্রেনের সময়সূচি সংক্রান্ত রিয়েল-টাইম ডিজিটাল তথ্য পরিষেবা যাত্রীদের অসুবিধা কমাবে। পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করবে।
উন্নত পার্কিং ও যান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ফলে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় যানজটও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পণ্য বিক্রির সুযোগও বাড়ানো হবে, যা নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং স্থানীয় ব্যবসা ও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে পর্যটন কেন্দ্রগুলির সঙ্গে যুক্ত এলাকাগুলি এর মাধ্যমে উপকৃত হবে।
‘অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প’-এর আওতায় এই বড় পরিকাঠামোগত উদ্যোগ সরকারের সেই লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করে, যেখানে কোটি কোটি যাত্রীকে বিশ্বমানের পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রচারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মধ্যপ্রদেশের ক্ষেত্রে উন্নত এই স্টেশনগুলি শুধু দৈনন্দিন যাতায়াত ও দূরপাল্লার ভ্রমণকে সহজ করবে না, বরং পর্যটন ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
























