তিরুবনন্তপুরম, ১৭ জুলাই (আইএএনএস): কেরল বিধানসভায় বিরোধী দলের উপনেতা পদকে কেন্দ্র করে সিপিআই(এম) ও সিপিআইয়ের মধ্যে বিরোধ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করেছে। ক্ষমতা হারানোর পর এটি বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ)-এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংঘাত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের দুই শরিক দলের সম্পর্কের টানাপোড়েনও নতুন করে সামনে এসেছে।
১৯৬৪ সালে সিপিআই থেকে বেরিয়ে গিয়ে সিপিআই(এম)-এর জন্ম হয়। তারপর থেকে দুই দল আদর্শগতভাবে বামপন্থী হলেও বিভিন্ন সময়ে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে।
বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে কেরল বিধানসভার বিরোধী দলের উপনেতা পদ। এলডিএফের বড় শরিক সিপিআই(এম) এই পদ ছাড়তে রাজি নয়। অন্যদিকে, দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক সিপিআই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই পদ ছাড়া অন্য কোনও প্রস্তাবে তারা রাজি হবে না।
বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যান পদ দেওয়ার প্রস্তাবও সিপিআই প্রত্যাখ্যান করেছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ডি. রাজা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, এই ইস্যুতে কোনও আপস করবে না সিপিআই।
এই সংঘাত নতুন নয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের দীর্ঘ শাসনামলেও একাধিকবার সিপিআই নিজেদের স্বাধীন অবস্থান তুলে ধরেছিল। এক পর্যায়ে মতবিরোধের জেরে সিপিআইয়ের চার মন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠক বয়কটও করেছিলেন, যা ছিল নজিরবিহীন ঘটনা।
সম্প্রতি কেন্দ্রের পিএম-শ্রী স্কুল প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত থেকেও রাজ্য সরকারকে সরে আসতে বাধ্য করেছিল সিপিআই। অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রিসভার অনুমোদন ছাড়াই কেন্দ্রের সঙ্গে ওই চুক্তিতে সই করেছিলেন। এই ঘটনাও শরিক দলের ওপর সিপিআইয়ের প্রভাব ও স্বাধীন অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিরোধী দলের উপনেতা পদকে ঘিরে বর্তমান বিরোধ শুধুমাত্র একটি সাংবিধানিক পদ নিয়ে নয়। সিপিআই মনে করছে, এই পদ পেলে এলডিএফের মধ্যে সিপিআই(এম)-এর প্রভাবের ভারসাম্য কিছুটা রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, সিপিআই(এম)-এর আশঙ্কা, এই দাবি মেনে নিলে দলের কর্তৃত্ব দুর্বল হতে পারে এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বাড়তে পারে।
বিতর্ক এখন আদর্শগত ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়েছে। দুই দলের মুখপত্রে কেরলের বাম আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সি. অচ্যুত মেননের উত্তরাধিকার নিয়ে দুই দলের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে।
কেরলের অন্যতম সফল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত অচ্যুত মেনন ভূমি সংস্কার, এক লক্ষ আবাসন প্রকল্প এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয়। তবে সিপিআইয়ের অভিযোগ, তাঁর অবদানকে সিপিআই(এম) কখনও যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি।
ফলে, একটি বিধানসভা পদের দাবি ঘিরে শুরু হওয়া এই বিরোধ এখন কেরলের বাম রাজনীতিতে প্রভাব, ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নে বড় রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত হয়েছে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে একসঙ্গে থাকা এলডিএফের অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।



















