নয়াদিল্লি, ১৭ জুলাই (আইএএনএস): ভারতের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের উদ্বোধনের আগে দেশের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করলেন রাষ্ট্রসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি-র প্রাক্তন নির্বাহী পরিচালক এরিক সোলহেইম। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি লেখেন, “দারুণ উদ্যোগ, ভারত!”
সোলহেইম বলেন, এই প্রকল্পে অত্যাধুনিক প্রপালশন প্রযুক্তির পাশাপাশি হাইড্রোজেন সংরক্ষণ, জ্বালানি ভরার ব্যবস্থা এবং পরিচালনাগত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ ভারতের পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব রেল পরিবহনের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার হরিয়ানার জিন্দ থেকে দেশের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের সূচনা করবেন। জিন্দ থেকে সোনিপত রুটে চলাচলকারী এই ট্রেনে মোট ১০টি কোচ রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী ট্রেন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রেল মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। প্রচলিত বৈদ্যুতিক বা ডিজেলচালিত ট্রেনের মতো নয়, এই ট্রেনে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে প্রোটন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তির মাধ্যমে। ট্রেনে সংরক্ষিত হাইড্রোজেন এবং বাতাসের অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে, যা ট্রেনের মোটর চালাবে।
এই প্রক্রিয়ায় কেবল জলীয় বাষ্প এবং তাপ উৎপন্ন হয়। ফলে এটি প্রায় শূন্য কার্বন নির্গমনকারী পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা।
ট্রেনটিতে দুটি হাইড্রোজেনচালিত পাওয়ার কার এবং আটটি ট্রেলার কোচ রয়েছে। প্রতিটি পাওয়ার কার ১,২০০ কিলোওয়াট (প্রায় ১,৬০০ অশ্বশক্তি) শক্তি উৎপন্ন করতে সক্ষম। প্রায় ২,৬০০ জন যাত্রী বহনের ক্ষমতা রয়েছে এই ট্রেনের।
প্রকল্পের অংশ হিসেবে জিন্দে ভারতীয় রেল দেশের প্রথম সমন্বিত রেলওয়ে হাইড্রোজেন ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে। সেখানে ইলেক্ট্রোলাইসিস পদ্ধতিতে হাইড্রোজেন উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং বিশেষ রিফুয়েলিং স্টেশনের মাধ্যমে ট্রেনে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই কেন্দ্র প্রায় ৩,০০০ কেজি হাইড্রোজেন সংরক্ষণ করতে সক্ষম।
হাইড্রোজেন অত্যন্ত দাহ্য হওয়ায় ট্রেন ও রিফুয়েলিং ব্যবস্থায় একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাইড্রোজেন লিক ডিটেক্টর, আগুন, তাপ ও ধোঁয়া শনাক্তকারী সেন্সর, স্বয়ংক্রিয় বায়ু চলাচল ব্যবস্থা এবং কোনও অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে হাইড্রোজেন সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা।
রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, এই প্রকল্প স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পাশাপাশি পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন-এর সমস্ত বিধি মেনে তৈরি করা হয়েছে।
মন্ত্রকের মতে, দেশের ব্রডগেজ রেলপথের ৯৯ শতাংশেরও বেশি বিদ্যুতায়নের পর সবুজ পরিবহনের পথে এটি ভারতীয় রেলের পরবর্তী বড় পদক্ষেপ। পাশাপাশি, এই প্রকল্প জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন এবং ভারতের দীর্ঘমেয়াদি নেট-জিরো কার্বন নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভবিষ্যতে ঐতিহ্যবাহী রেলপথ-সহ আরও বিভিন্ন রুটে হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।



















