News Flash

  • Home
  • বিদেশ
  • পাঞ্জাবভিত্তিক গ্যাং গড়ে তুলেছিল বৈশ্বিক অপরাধ চক্র, দাবি এফবিআইয়ের
Image

পাঞ্জাবভিত্তিক গ্যাং গড়ে তুলেছিল বৈশ্বিক অপরাধ চক্র, দাবি এফবিআইয়ের

ওয়াশিংটন, ১৭ জুলাই (আইএএনএস): পাঞ্জাবভিত্তিক একটি অপরাধী গ্যাং পাঁচটি মহাদেশজুড়ে বিস্তৃত একটি আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধ চক্রে পরিণত হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে মার্কিন ফেডারেল তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)। মার্কিন আদালতে দায়ের করা এক বিস্তৃত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই গ্যাংয়ের সদস্য ও সহযোগীর সংখ্যা ১,০০০-এরও বেশি এবং তারা খুন, অপহরণ, মাদক পাচার, তোলাবাজি, অস্ত্র পাচার, অর্থপাচার ও মানব পাচারের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার আয় করেছে।

আইএএনএসের হাতে আসা ৪৪ পাতার অভিযোগপত্রটি ভারতীয় পাঞ্জাব থেকে শুরু হওয়া একটি অপরাধী নেটওয়ার্ক কীভাবে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও ওশেনিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল, তার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন জেলা আদালতে দায়ের করা এই অভিযোগপত্রে ১৫ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কথিত গ্যাং নেতা জগ্গু ভগবানপুরিয়া এবং ভারতীয় নাগরিক নীতিশ কৌশল। এফবিআই চলতি সপ্তাহের শুরুতে নীতিশ কৌশলকে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় রাখার পর শুক্রবার ভারমন্ট থেকে গ্রেফতার করেছে।

মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, জগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপের সূত্রপাত পাঞ্জাবে। জগ্গু আগে জেলবন্দি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ, পরে তিনি আলাদা অপরাধী নেটওয়ার্ক তৈরি করেন, যা পরবর্তীতে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনে পরিণত হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, স্থানীয় অপরাধী গোষ্ঠী থেকে এই সংগঠন ধীরে ধীরে “ভারতে সদর দফতর থাকা একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী সিন্ডিকেটে” পরিণত হয়। এর সদস্য ও সহযোগীরা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে সক্রিয় ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা বিশ্বজুড়ে ১,০০০-এর বেশি হয়ে গিয়েছিল, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেই ১০০-এর বেশি সদস্য ও সহযোগী ছিল।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা খুন, ভাড়াটে খুন, অপহরণ, মাদক পাচার, তোলাবাজি, অস্ত্র পাচার, অর্থপাচার এবং মানব পাচারের মতো অপরাধে যুক্ত ছিল।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, অপরাধমূলক কার্যকলাপ রক্ষা, প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দেওয়া, সংগঠনের প্রতি অবিশ্বস্ত সদস্যদের শাস্তি দেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের ভয় দেখানোর জন্য তারা সহিংসতার আশ্রয় নিত। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন হিংসাত্মক ঘটনার দায় স্বীকার করে সংগঠনের প্রভাব ও আতঙ্ক বাড়ানোর চেষ্টা করা হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে সংগঠনটির নিয়োগ পদ্ধতি নিয়েও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, পাঞ্জাবের আর্থিকভাবে দুর্বল ও সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের, এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও, ইচ্ছাকৃতভাবে দলে টানা হতো।

তাদের অর্থ, পরিচিতি, প্রভাব এবং স্টুডেন্ট বা ওয়ার্ক ভিসার মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। কিছু ক্ষেত্রে খুনের মতো অপরাধ করার জন্য মাত্র ২০ হাজার টাকা (প্রায় ২০০ ডলার) পর্যন্ত দেওয়া হতো বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, জগ্গু ভগবানপুরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন, মেথামফেটামিনসহ বিভিন্ন মাদক পাচারের রুট নিয়ন্ত্রণ করতেন।

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে মাদক সংগ্রহ করে বড় ট্রাকে করে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চল এবং মার্কিন-কানাডা সীমান্ত এলাকায় পাঠানো হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একটি চালানে ১০০ কেজি বা তার বেশি কোকেন বা মেথামফেটামিন থাকত বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রসিকিউটরদের আরও অভিযোগ, সংগঠনটি প্রতিদ্বন্দ্বী মাদক চক্রের কাছ থেকে মাদক ছিনিয়ে নিত এবং নিজেদের চালান চুরির সন্দেহে জড়িতদের বিরুদ্ধে সহিংস প্রতিশোধ নিত।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সংগঠনটির তোলাবাজির কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও বিস্তৃত ছিল। গ্যাং সদস্যরা সম্ভাব্য টার্গেটদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করত এবং ভারতে থাকা তাঁদের আত্মীয়দের লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ।

এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে হুমকি পাঠিয়ে টাকা আদায় করা হতো বলে দাবি করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও পাঞ্জাবের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মীর সঙ্গে যোগসাজশ করে মিথ্যা মামলা তৈরি ও পরে টাকা নিয়ে মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে পাঞ্জাবের এক পুলিশ আধিকারিক গুরিন্দরজিৎ সিংয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, তিনি ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করতে সহযোগিতা করেছিলেন। তবে এই অভিযোগগুলি এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

মার্কিন প্রসিকিউটরদের আরও দাবি, সংগঠনটি অস্ত্র পাচারেও যুক্ত ছিল। নেভাডায় ভুয়ো ক্রেতাদের (স্ট্র-ক্রেতা) মাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি বা কানাডায় পাচার করা হতো বলে অভিযোগ।

অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, জগ্গু ভগবানপুরিয়া জেলে থেকেও অবৈধ মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট-ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

প্রসিকিউটরদের মতে, সংগঠন ছেড়ে বেরিয়ে আসা অত্যন্ত কঠিন ছিল। যারা অবিশ্বস্ত বলে বিবেচিত হতো, তাদের বা ভারতে থাকা পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার আশঙ্কা থাকত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

।।।।।।

Releated Posts

গ্যাস সংকটে প্রায় অচল বাংলাদেশের অর্থনীতি, এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন সরবরাহ

ঢাকা, ৩১ আগস্ট (আইএএনএস): তীব্রতর জ্বালানি সংকটের মধ্যে আগস্টে বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহ কোভিড মহামারির শুরুর দিকের পর সর্বনিম্ন…

ByByNews Desk Aug 31, 2026

ভারত-উজবেকিস্তানের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক, অংশীদারিত্বে বিপুল সম্ভাবনা: প্রেসিডেন্ট মিরজিয়োয়েভ

তাসখন্দ, ৩০ আগস্ট (আইএএনএস): ভারত ও উজবেকিস্তানের জনগণের মধ্যে গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই সম্পর্ক বর্তমানে আরও…

ByByNews Desk Aug 30, 2026

‘অসাধারণ রাষ্ট্রনায়ক, বিচক্ষণ রাজনৈতিক নেতা’: ভারতের বিশ্বমঞ্চে উত্থানের কৃতিত্ব মোদির নেতৃত্বকে দিলেন উজবেক প্রেসিডেন্ট

তাসখন্দ, ৩০ আগস্ট (আইএএনএস): ভারতের দ্রুত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান প্রভাবের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বকে কৃতিত্ব…

ByByNews Desk Aug 30, 2026

বাংলাদেশে ফের সক্রিয় নিও-জেএমবি, নতুন করে বাড়ছে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা

ঢাকা, ২৯ আগস্ট (আইএএনএস): বাংলাদেশে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইসলামিক স্টেট-অনুপ্রাণিত জঙ্গি সংগঠন নিও-জেএমবি। নিষিদ্ধ জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের…

ByByNews Desk Aug 29, 2026
Scroll to Top