নয়াদিল্লি, ৩১ আগস্ট (আইএএনএস): চলতি অর্থবর্ষ ২০২৬-২৭-এর প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধিকে ‘অসাধারণ সাফল্য’ বলে অভিহিত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, তেলের দামের ধাক্কা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যার মধ্যেও দেশের এই প্রবৃদ্ধির জন্য দেশবাসীর সম্মিলিত শক্তিকে কৃতিত্ব দিয়েছেন তিনি।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, “বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার মধ্যে তেলের দামের ধাক্কা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যার মধ্যেও আমাদের মানুষের সম্মিলিত শক্তি ভারতকে এই ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম করেছে।”
তিনি আরও লেখেন, “যাঁরা ভারতের পতনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তাঁরাই ব্যর্থ হলেন এবং ভারত আবারও এগিয়ে গেল।”
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি ৮১.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। গত অর্থবর্ষের একই ত্রৈমাসিকে এই পরিমাণ ছিল ৭৫.৪৬ লক্ষ কোটি টাকা। ফলে প্রকৃত জিডিপিতে ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে।
পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে বর্তমান মূল্যে নামমাত্র জিডিপি দাঁড়িয়েছে ৮৮.২৭ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে এই পরিমাণ ছিল ৮০ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ নামমাত্র জিডিপিতে ১০.৩ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে।
একই সময়ে প্রকৃত মোট মূল্য সংযোজন বা জিভিএ দাঁড়িয়েছে ৭৩.৮২ লক্ষ কোটি টাকা, যা গত অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ছিল ৬৮.২১ লক্ষ কোটি টাকা। ফলে প্রকৃত জিভিএ-তে ৮.২ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে।
নামমাত্র জিভিএ-ও ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ৮০.৫৩ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত অর্থবর্ষের একই সময়ে তা ছিল ৭২.২৪ লক্ষ কোটি টাকা। ফলে নামমাত্র জিভিএ-তে ১১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে।
মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০২২-২৩ ভিত্তিবর্ষ অনুযায়ী ত্রৈমাসিক জিডিপির এই হিসাব মূলত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ২০১৭ সালের ত্রৈমাসিক জাতীয় হিসাব ম্যানুয়াল-এ উল্লিখিত নির্দেশিকা ও মানদণ্ড অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে।
নতুন জাতীয় আয় পরিসংখ্যান সিরিজে উৎপাদন ক্ষেত্রে জিভিএ হিসাবের জন্য ‘ডাবল ডিফ্লেশন’ পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রক।
























