নয়াদিল্লি, ৩১ আগস্ট (আইএএনএস): সরকারি কর্মীদের চলমান আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক রাজ্যব্যাপী ধর্মঘটে অংশ নেওয়া কর্মীদের শোকজ নোটিস দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পঞ্জাবের আম আদমি পার্টি (আপ) সরকারের বিরুদ্ধে সোমবার তীব্র আক্রমণ শানাল বিজেপি।
আন্দোলনরত সরকারি কর্মীরা বকেয়া ১৮ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) প্রদান, পুরনো পেনশন প্রকল্প (ওপিএস) চালু এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়মিতকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন। আপ সরকার শোকজ নোটিস প্রত্যাহার না করলে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর গণছুটিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
সোমবার নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলনে দলের মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া অভিযোগ করেন, নির্বাচনী ইস্তাহারে পঞ্জাবের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি ভুলে গিয়েছে ভগবন্ত মানের নেতৃত্বাধীন সরকার। দীর্ঘদিনের দাবি নিয়ে আন্দোলন করা কর্মীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ভাটিয়া বলেন, পঞ্জাবের ২৩টি জেলায় চুক্তিভিত্তিক কর্মী-সহ প্রায় তিন লক্ষ সরকারি কর্মী আন্দোলনে নেমেছেন। তাঁদের সঙ্গে প্রায় ৩.৫ লক্ষ পেনশনভোগীও নিজেদের দাবি নিয়ে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন।
তিনি বলেন, কর্মীদের নিয়মিতকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। ১৮ শতাংশ বকেয়া ডিএ এখনও দেওয়া হচ্ছে না। একইভাবে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও ভগবন্ত মান পুরনো পেনশন প্রকল্প চালুর প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও তার কোনও রূপরেখা তৈরি হয়নি।
ভাটিয়ার অভিযোগ, ভগবন্ত মান বলেছেন, আন্দোলন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কর্মীদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করবেন না।
বিজেপি নেতা পঞ্জাব সরকারের ২৯ আগস্টের একটি নোটিসও সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ওই নোটিসে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মীদের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দফতরের মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ভাটিয়া প্রশ্ন তোলেন, সরকার যখন ডিএ দেওয়া, চাকরি নিয়মিতকরণ এবং ওপিএস চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তখন সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত?
পঞ্জাবের মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ২০২২ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া নিয়েও আপ সরকারকে নিশানা করেন বিজেপি মুখপাত্র। তাঁর অভিযোগ, সাড়ে চার বছর কেটে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। নির্বাচন এগিয়ে আসতেই চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রতিশ্রুতি পূরণের নামে লোকদেখানো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আপের আন্দোলনের রাজনীতি নিয়েও কটাক্ষ করেন ভাটিয়া। তাঁর অভিযোগ, আপ বিরোধী অবস্থানে থাকাকালীন আন্দোলন, ধরনা ও প্রতিবাদকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে তুলে ধরত। কিন্তু সেই দল ক্ষমতায় এসে মানুষের আন্দোলনের ক্ষেত্রে ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছে।
তিনি বলেন, “এটাই আপের দ্বিচারিতা। যখন আপ আন্দোলন করে, তখন সেটি গণতান্ত্রিক। কিন্তু আপ সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হলে এবং ক্ষুব্ধ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তা ‘শৃঙ্খলাভঙ্গ’ বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, গত ২৭ আগস্ট পঞ্জাবের তিন লক্ষেরও বেশি সরকারি কর্মী গণছুটি নিয়ে রাজ্যব্যাপী ধর্মঘটে সামিল হয়েছিলেন। এর ফলে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা ব্যাহত হয়েছিল।
পঞ্জাব সাঁঝা মুলাজম মঞ্চের অধীনে ১৫০টিরও বেশি কর্মী সংগঠন ‘মহা হরতাল’-এ অংশ নেয়। প্রায় ৩.৫০ লক্ষ পেনশনভোগীও ধর্মঘটে যোগ দেন।
কর্মীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে ১৮ শতাংশ বকেয়া ডিএ প্রদান, পুরনো পেনশন প্রকল্প চালু এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়মিতকরণ। এছাড়াও মিড-ডে মিল, আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য ন্যূনতম মজুরি, এসিপি প্রকল্প পুনর্বহাল এবং ২০২০ সালের ১৭ জুলাইয়ের পর নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য পঞ্জাবের বেতন কাঠামো চালুর দাবি রয়েছে।
আন্দোলনরত কর্মী নেতাদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ১৮ শতাংশ ডিএ-র কিস্তি ও বকেয়া অর্থ দেওয়া হয়নি বলেও তাঁদের দাবি।
আগামী দিনগুলিতে আন্দোলন আরও তীব্র করার কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে কর্মী সংগঠনগুলি। এর মধ্যে আপ মন্ত্রী ও বিধায়কদের নিজ নিজ বাড়ি ঘেরাও, রাজ্যজুড়ে মানববন্ধন, ৩০ সেপ্টেম্বর ‘এমপ্লয়িজ অ্যাসেম্বলি’ এবং ১০ অক্টোবর সাঙ্গরুরে মহা সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে।
পঞ্জাব সরকার দাবি না মানলে আগামী ২১ ও ২২ অক্টোবর ফের দু’দিনের গণছুটিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কর্মী সংগঠনগুলি।
—আইএএনএস























