তাসখন্দ, ৩০ আগস্ট (আইএএনএস): মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক ও কৌশলগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে উজবেকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার তাসখন্দে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ভারত ও উজবেকিস্তানের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও চিন্তাভাবনার মধ্যে গভীর মিল রয়েছে।
মোদি বলেন, উজবেকিস্তান মধ্য এশিয়ার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং এই অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও দেশটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যুবসমাজ, উদ্ভাবন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তি—এই বিষয়গুলি ‘ইয়াঙ্গি উজবেকিস্তান’ ও ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর অভিন্ন লক্ষ্যের কেন্দ্রে রয়েছে।
তিনি বলেন, অভিন্ন এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে দুই দেশ নিজেদের জনগণের কল্যাণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। তাসখন্দে তাঁকে ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী।
মোদি বলেন, উজবেকিস্তরে এটি তাঁর চতুর্থ সফর, যা দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, সমন্বয় ও বন্ধুত্বের প্রতিফলন। গত প্রায় এক দশকে প্রেসিডেন্ট মিরজিয়োয়েভের সঙ্গে তাঁর ১০টিরও বেশি সাক্ষাৎ হয়েছে বলেও জানান তিনি। মিরজিয়োয়েভের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, দূরদর্শিতা এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহের প্রশংসা করে মোদি বলেন, ভারতের প্রতি উজবেক প্রেসিডেন্টের বন্ধুত্ব ও অটুট অঙ্গীকার অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে ভারত ও উজবেকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ, যৌথ উৎপাদন এবং যৌথ উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হবে। দুই দেশই সন্ত্রাসবাদ, উগ্রপন্থা ও বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলে জানান তিনি।
মোদি বলেন, দুই দেশের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন। সন্ত্রাসবাদ, উগ্রপন্থা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদ গোটা অঞ্চলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এবং এই তিনটির বিরুদ্ধে ভারত ও উজবেকিস্তানের অবস্থান অভিন্ন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালে ভারত ও উজবেকিস্তানের কৌশলগত অংশীদারিত্বের ১৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মোদি। তিনি বলেন, ভারত ও উজবেকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য ইতিমধ্যেই ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই বাণিজ্য ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে বাজারে প্রবেশাধিকার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যাংকিং ও পেমেন্ট ব্যবস্থার মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে।
পরিকাঠামো উন্নয়নেও দুই দেশ পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা গড়ে তুলবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই চুক্তি দুই দেশের যৌথ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে।
ভারত-উজবেকিস্তান সম্পর্ককে শুধু দুই দেশের রাজধানী দিল্লি ও তাসখন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার উপরও জোর দেন মোদি। তিনি বলেন, দুই দেশের শহর ও রাজ্যগুলির মধ্যে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হবে। এর ফলে নগর পরিচালনা, শিল্প, শিক্ষা, পর্যটন ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সরাসরি যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত ও উজবেকিস্তানের সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং আগামী দিনে অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার আরও বিস্তৃত সুযোগ তৈরি হবে।
—আইএএনএস



















