তাসখন্দ, ৩০ আগস্ট (আইএএনএস): ভারত ও উজবেকিস্তানের জনগণের মধ্যে গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই সম্পর্ক বর্তমানে আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভ। তিনি বলেন, কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই অংশীদারিত্ব আন্তর্জাতিক মঞ্চেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
রবিবার তাসখন্দে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মিরজিয়োয়েভ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত সরাসরি ও বিস্তারিত আলোচনার ফলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন দিশা দেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
উজবেক প্রেসিডেন্ট বলেন, “আজ আমরা যে সরাসরি ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি, তা আমাদের গভীর বন্ধুত্ব এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রমাণ। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই অংশীদারিত্ব আন্তর্জাতিক মঞ্চেও যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে।”
দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে একটি রোডম্যাপ তৈরির কাজও চলছে বলে জানান মিরজিয়োয়েভ।
ভারতের ডিজিটাল উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং স্টার্টআপ ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর মতে, টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারত বর্তমানে বিশ্বে নেতৃত্বের জায়গায় রয়েছে। এই অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উজবেকিস্তানও ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে চায়।
মিরজিয়োয়েভ বলেন, ভারত-উজবেকিস্তান সম্পর্ক এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তা ‘সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এ উন্নীত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তি ও সিদ্ধান্তগুলির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ ব্যবস্থাও তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য দুই দেশ বিশেষ দল মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসঙ্গে, দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীদের তত্ত্বাবধানে থাকা বিভিন্ন কাঠামোকে আরও কার্যকর করার জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংস্থাগুলির বিনিয়োগ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান উজবেক প্রেসিডেন্ট। ভবিষ্যতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ চিহ্নিত করার পাশাপাশি আন্তঃসরকারি যৌথ কমিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।
শক্তি, সংস্কৃতি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ওষুধ, অলঙ্কার শিল্প এবং কৃষি—সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য পৃথক রোডম্যাপ তৈরি করা হবে। নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের জন্য ভারত ও উজবেকিস্তানের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদল পরস্পরের দেশে সফর করবে বলেও জানান তিনি।
মহাকাশ ক্ষেত্রের সহযোগিতাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মিরজিয়োয়েভ। তাঁর মতে, এই ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ভারত ও উজবেকিস্তান পরস্পরকে সমর্থন করে যাবে বলে জানান তিনি। ব্রিকস, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, গ্লোবাল সাউথ এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও জানান উজবেক প্রেসিডেন্ট।
ভারত ও উজবেকিস্তানের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক যোগাযোগের কথা তুলে ধরে মিরজিয়োয়েভ বলেন, এই সম্পর্ক আজও ক্রমাগত সমৃদ্ধ হচ্ছে, যা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।
তিনি জানান, বর্তমানে উজবেকিস্তানে চারটি ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম চালাচ্ছে। পাশাপাশি, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী সেন্টার ফর ইন্ডিয়ান কালচার এবং মহাত্মা গান্ধী সেন্টারও দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মানুষে-মানুষে যোগাযোগ আরও বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত সহজ করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। উজবেকিস্তানের ৩০ দিনের ভিসামুক্ত ব্যবস্থা এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা বৃদ্ধির উদ্যোগ আরও বেশি মানুষকে পরস্পরের দেশে ভ্রমণের সুযোগ করে দেবে বলে জানান মিরজিয়োয়েভ।
দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমস্ত চুক্তি ও সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ তৈরি করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করবেন এবং তিনি ও প্রধানমন্ত্রী মোদি ব্যক্তিগতভাবে সেই প্রক্রিয়ার তদারকি করবেন বলেও জানান উজবেক প্রেসিডেন্ট।
আইএএনএস



















