শিকাগো, ৩০ আগস্ট (আইএএনএস): ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য অর্জনের জন্য হাতে আর খুব বেশি সময় নেই। তাই সংস্কারের যে গতি ও পরিসরে কাজ চলছে, তা এগিয়ে নিতে আরও বেশি সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
শিকাগোয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত ও প্রবাসী ভারতীয়দের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৪৭ সালের লক্ষ্য এখন থেকে প্রায় ২০ বছর দূরে। এই সময়ের মধ্যে দেশের উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে প্রতিভাবান ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পাশাপাশি নতুন চিন্তাভাবনা এবং পর্যাপ্ত মূলধনের প্রয়োজন রয়েছে।
সীতারামন বলেন, দেশের সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এমন মানুষদের সহযোগিতা দরকার, যাঁদের প্রতিভা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং যাঁরা নতুন ধারণা দিতে পারেন। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক লক্ষ্যে পৌঁছতে মূলধনেরও গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ঋণের পরিমাণ জিডিপির ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্য পূরণের পথে সরকার এগিয়ে চলেছে। একইসঙ্গে রাজস্ব ঘাটতি নিয়েও একটি নির্দিষ্ট আর্থিক শৃঙ্খলার পথ অনুসরণ করা হচ্ছে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার শেষ ধাপও পূরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে সীতারামন বলেন, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন এবং পরে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির আর্থিক বিচক্ষণতা বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে। ভারতের ক্রেডিট রেটিংও উন্নত হচ্ছে। তবে সামাজিক কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ কমিয়ে বা কোনও ক্ষেত্রে আপস করে এই উন্নতি হয়নি; বরং সঠিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই তা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া সংকটের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেল, এলপিজি এবং সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সরবরাহ কমে গিয়েছিল। পণ্য পরিবহণকারী জাহাজগুলি পর্যাপ্ত বিমা কভার না পাওয়ায় ঝুঁকির প্রিমিয়ামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল বলে তিনি জানান।
তবে ভারত আগেভাগে বাজারকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে প্রস্তুত রাখায় দেশে সারের ঘাটতি তৈরি হয়নি বলে দাবি করেন সীতারামন। তিনি বলেন, সরকার বাজেট ঘোষণার মাধ্যমে একটি বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা করেছিল, যাতে ঝুঁকির কারণে জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলিকে অতিরিক্ত বিমা প্রিমিয়াম দিতে হলে সেই খরচে সরকার সহায়তা করতে পারে।
এর ফলে ভারতীয় কৃষক, পরিবার এবং দেশের লজিস্টিক ব্যবস্থাকে এই আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার ধাক্কা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
সীতারামন বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বহু দেশের অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ভারতেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকার কঠিন পরিস্থিতিতে দেশের নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করেছে।
‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণে প্রবাসী ভারতীয়দের ভূমিকার ওপরও জোর দেন অর্থমন্ত্রী। দেশের উন্নয়নের গতি আরও বাড়াতে তাঁদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, নতুন ধারণা এবং বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। —আইএএনএস



















