ইম্ফল, ৩০ আগস্ট (আইএএনএস): মণিপুরের ক্রীড়াবিদরা বিভিন্ন ক্রীড়া ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করে আরও পদক জিতবেন এবং রাজ্য ও দেশের জন্য আরও গৌরব ও স্বীকৃতি বয়ে আনবেন বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন রাজ্যের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কন্থৌজম গোবিন্দাস সিং।
শনিবার ইম্ফলে জাতীয় ক্রীড়া দিবস ২০২৬-এর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী যুমনাম খেমচাঁদ সিং খুমান লম্পাক স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ক্রীড়া পরিকাঠামো ও সরঞ্জামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছেন। এই উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতা ও সমর্থনের আহ্বান জানান তিনি।
ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় মেজর ধ্যানচাঁদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর জাতীয় ক্রীড়া দিবস পালিত হয়। হকিতে তিনটি অলিম্পিক সোনা জিতে তিনি ভারতের জন্য বিপুল গৌরব বয়ে এনেছিলেন।
তিনি জানান, কিংবদন্তি এই ক্রীড়াবিদকে সম্মান জানাতে এবং ক্রীড়া ও শারীরিক সক্ষমতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ২০১২ সাল থেকে দেশজুড়ে জাতীয় ক্রীড়া দিবস পালিত হয়ে আসছে। এই দিনটি ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে খেলাধুলায় আরও বেশি অংশগ্রহণ এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য অনুপ্রাণিত করে।
গোবিন্দাস সিং বলেন, খুমান লম্পাক স্পোর্টস কমপ্লেক্স দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া পরিকাঠামো। ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক এবং বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য এই কমপ্লেক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। তাই অত্যন্ত যত্ন ও নিষ্ঠার সঙ্গে এর রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়ন করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সকালে খুমান লম্পাক স্পোর্টস কমপ্লেক্স থেকে একটি হাফ ম্যারাথনের সূচনা করেন মন্ত্রী। প্রায় ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা মালোম অয়েল ডিপো পর্যন্ত গিয়ে ফের খুমান লম্পাক স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ফিরে আসেন।
মূল অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে হকি স্টেডিয়ামে মেজর ধ্যানচাঁদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দফতরের সচিব নাওরেম প্রবীণ সিং বলেন, নতুন প্রণীত ‘ভারত খেল নীতি, ২০২৫’ এবং জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি), ২০২০ বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটে জাতীয় ক্রীড়া দিবস উদযাপন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক সুস্থতা এবং খেলাধুলা ও শারীরিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগগুলি নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ভারতের জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। ফলে দেশের যুবসমাজই ভারতের অন্যতম বড় শক্তি। যুবকদের শারীরিকভাবে সুস্থ রাখা এবং তাঁদের খেলাধুলায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মণিপুরের তরুণ ক্রীড়াবিদরা ভবিষ্যতেও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবেন এবং রাজ্যের অর্জনের তালিকায় আরও সাফল্য যোগ করে মণিপুর ও দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবেন বলে আশা প্রকাশ করেন ক্রীড়া সচিব।
পরে সন্ধ্যায় জাতীয় ক্রীড়া দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে খুমান লম্পাক হকি স্টেডিয়ামে পুরুষ ও মহিলা হকির প্রদর্শনী ম্যাচেরও উদ্বোধন করা হয়। —আইএএনএস



















