গুয়াহাটি, ৩০ আগস্ট (আইএএনএস): উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগের প্রবেশদ্বার হিসেবে নিউ জলপাইগুড়ি রেলস্টেশনকে আরও আধুনিক করে গড়ে তোলা হচ্ছে। উন্নত পরিকাঠামোর পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য বাড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও। রেল সূত্রে এ কথা জানানো হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের (এনএফআর) মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (সিপিআরও) কপিঞ্জল কিশোর শর্মা শনিবার জানান, নিউ জলপাইগুড়ি রেলস্টেশনের বড় ধরনের আধুনিকীকরণ ও পুনর্গঠনের মূল লক্ষ্য হল যাত্রী পরিষেবা, যাতায়াতের সুবিধা এবং স্টেশনের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নত করা।
তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক পরিকাঠামো ও উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত হবে। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রবেশদ্বার হিসেবে নিউ জলপাইগুড়ির ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।
এনএফআরের কাটিহার ডিভিশনের অধীনে নিউ জলপাইগুড়ি জংশন রেলস্টেশনের আধুনিকীকরণ ও পুনর্গঠনের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে।
সম্প্রতি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল নির্মাণ শাখার জেনারেল ম্যানেজার আশিস বনসল নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে চলমান উন্নয়ন ও পুনর্গঠন কাজ পরিদর্শন করেন। তাঁর সঙ্গে এনএফআর সদর দফতরের নির্মাণ শাখার ঊর্ধ্বতন আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের কর্মকর্তারাও ছিলেন।
পরিদর্শনের সময় বনসল স্টেশনকে আধুনিক, অত্যাধুনিক এবং যাত্রীবান্ধব রেল পরিষেবা কেন্দ্রে রূপান্তরের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন। প্রকল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেমন আগমন টার্মিনাল ভবন, প্রস্থান টার্মিনাল, এলিভেটেড রোড, পডিয়াম পার্কিং, এয়ার কনকোর্স, নতুন ফুট ওভারব্রিজ (এফওবি), প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন, সারফেস রোড এবং অন্যান্য যাত্রী পরিষেবা পরিকাঠামোর কাজ পর্যালোচনা করেন তিনি।
পুনর্গঠন পরিকল্পনায় যানবাহন চলাচলের উন্নত ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা, যাত্রী ওঠানামার জন্য পৃথক জায়গা এবং স্টেশনের বিভিন্ন পরিষেবা এলাকার মধ্যে আরও উন্নত সংযোগ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বিভিন্ন এলাকায় চলমান কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখে বনসল নিয়মিত নজরদারি, কার্যকর সমন্বয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে নিরাপত্তা ও গুণমানের নির্ধারিত মান বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও নির্মাণকারী সংস্থাগুলিকে চলমান কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়সীমা মেনে প্রকল্প শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গুয়াহাটির কাছে মালিগাঁওয়ে সদর দফতর অবস্থিত উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের সাতটি এবং বিহারের পাঁচটি জেলায় রেল পরিষেবা পরিচালনা করে। —আইএএনএস



















