ডিমাপুর (নাগাল্যান্ড), ৩০ আগস্ট (আইএএনএস): নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও বলেছেন, ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) ব্যবস্থা শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজ্যের পরিচয়, জমি, সংস্কৃতি ও আদিবাসী অধিকার রক্ষার পাশাপাশি উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণের কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠতে হবে।
শনিবার ডিমাপুরের টাউন হলে বেঙ্গল ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রেগুলেশন (বিইএফআর) আইন, ১৮৭৩ নিয়ে আয়োজিত একটি জাতীয় সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রিও একটি কার্যকর ও মানবিক আইএলপি নীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, এই নীতিতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিইএফআর ১৮৭৩-এর এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যা ভারতীয় নাগরিক, আদিবাসী নাগা জনগোষ্ঠী এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করবে।”
তিনি বলেন, নাগাল্যান্ডকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা উচিত নয়। বরং অন্যান্য জায়গার সেরা অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পারস্পরিকভাবে একে অপরের পরিপূরক হওয়ার পথ খুঁজে বের করতে হবে।
রিও জানান, রাজ্য সরকার ডিমাপুর, চুমৌকেদিমা ও নিয়ুল্যান্ড জেলায় আইএলপি ব্যবস্থা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই সিদ্ধান্ত গৌহাটি হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হলেও আদালত রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
এই রায়কে “নাগাদের জন্য বড় জয়” হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রায়টি সংবিধানের ৩৭১এ অনুচ্ছেদের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে। এই অনুচ্ছেদের মাধ্যমে নাগাল্যান্ডের জন্য বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিইএফআর আইনের প্রসঙ্গে রিও বলেন, স্থাবর সম্পত্তি সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত বিধানগুলি বিচক্ষণতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে হবে এবং অন্যের ক্ষতি করার জন্য এর অপব্যবহার করা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, ১৬ দফা চুক্তিতে স্বাক্ষরের সময় নাগাল্যান্ডের তৎকালীন নেতারা রাজ্যে এই আইনটির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছিলেন। ৩৭১এ অনুচ্ছেদের অধীনে স্বীকৃত প্রথাগত আইন, জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ধর্মীয় রীতিনীতি সুরক্ষিত রাখতে হবে। তবে এগুলিরও যেন অপব্যবহার না হয়, সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
এদিকে, নাগা স্টুডেন্টস ফেডারেশনের (এনএসএফ) ইনার লাইন রেগুলেশন কমিশন (আইএলআরসি) মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। সেখানে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে একটি স্বশাসিত নাগাল্যান্ড ইনার লাইন রেগুলেশন কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
এনএসএফের প্রস্তাবিত এই সংস্থার আইএলপি ব্যবস্থা কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম ও বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা থাকা উচিত বলেও সংগঠনটি জানিয়েছে।
সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আইএলপি ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকদের চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের অধিকার রয়েছে। একইসঙ্গে দেশের নাগরিকদের ভারতের সর্বত্র অবাধে চলাচলের মৌলিক অধিকারও রয়েছে।
ভূষণ বলেন, আইএলপি ব্যবস্থার মাধ্যমে বহিরাগতদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি অবাধ চলাচলের সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে পারে। যদিও উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে এই ব্যবস্থা এখনও কার্যকর রয়েছে।
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পরিচয় ও অস্তিত্ব রক্ষার লক্ষ্যে চালু আইএলপি বর্তমানে মিজোরাম, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড ও মণিপুরে কার্যকর রয়েছে। মেঘালয় ও ত্রিপুরাতেও আইএলপি চালুর দাবি জানিয়ে আসছে একাধিক সংগঠন।
বেঙ্গল ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রেগুলেশন, ১৮৭৩-এর অধীনেই আইএলপি ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। ব্রিটিশ সরকার ১৮৭৫ সালে এই বিধি বিজ্ঞপ্তি আকারে জারি করেছিল। এর মাধ্যমে আইএলপি কার্যকর রাজ্য ও অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিকদের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে এবং সীমিত সময়ের জন্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। —আইএএনএস



















