আগরতলা, ২৯ আগস্ট: দেশজুড়ে চিনি সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে দায়ী করে সরব হল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। শনিবার এক প্রেস বিবৃতিতে দলের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, দুর্নীতি বিজেপি-মোদি-শাহদের ডিএনএ-তেই। তাঁর দাবি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও সরকারের ভুল নীতির কারণেই বর্তমানে দেশে চিনির মজুদ কমেছে এবং বাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেসের বক্তব্য, গত আর্থিক বছরের তুলনায় এ বছর দেশে চিনির মজুদ প্রায় তিন লক্ষ মেট্রিক টন কম। গত বছরের এপ্রিলেই সুগার মিল অ্যাসোসিয়েশন চলতি বছরে ২৭৫ লক্ষ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে ৩৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন উৎপাদনের দাবি করা হয়েছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ, বাস্তবে সেই উৎপাদন হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশে সাধারণ সময়ে প্রতি মাসে প্রায় ২৪ লক্ষ মেট্রিক টন চিনি প্রয়োজন হয়। উৎসবের মরসুমে সেই চাহিদা বেড়ে প্রায় ৩০ লক্ষ মেট্রিক টনে পৌঁছায়। কিছুদিন আগেও প্রতি কেজি চিনি ৪৫ টাকার আশপাশে থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৭৭ টাকা হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রদেশ কংগ্রেস।
কংগ্রেসের অভিযোগ, এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে আগামী কয়েক মাসে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লাভের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গত ২০ আগস্ট ব্রাজিল থেকে কাঁচা চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি, জাহাজে করে চিনি ভারতে পৌঁছাতেই ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর তা প্রক্রিয়াজাত করে খাদ্যোপযোগী করতে আরও প্রায় ১৫ দিন লাগবে। ফলে উৎসবের মরসুমে এই আমদানি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ত্রিপুরার রেশন দোকানগুলিতে উৎসবের মরসুমে অন্তত মাথাপিছু ৫০০ গ্রাম করে চিনি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। একইসঙ্গে মজুতদারি, কালোবাজারি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অনিয়ম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেস আরও অভিযোগ করেছে, প্রায় এক বছর আগে ‘দিওয়ালি গিফট’-এর নামে জিএসটি করবিন্যাসের যে ঘোষণা করা হয়েছিল, তা নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য কার্যত ‘জুমলা’তে পরিণত হয়েছে। দলের দাবি, ওই সময় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হলেও পরবর্তীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়িয়েছে।
বিবৃতিতে রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব এবং সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, রেশনে চাল কমে যাওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বাদল অধিবেশনে কার্যকর আলোচনা ও সমাধানের প্রত্যাশা করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু তাদের অভিযোগ, সরকার এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের ১০০ কোটি টাকার ভর্তুকির ঘোষণাকেও ‘জুমলা’ বলে কটাক্ষ করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। দলের বক্তব্য, বর্তমানে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মানুষ আর্থিক সংকটে রয়েছেন। তাই রেশনিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে রেশনে অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী সরবরাহে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগী হতে হবে।
প্রবীর চক্রবর্তীর স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খাদ্যপণ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে সরাসরি বিপর্যস্ত করছে। তাই কথার মারপ্যাঁচ ও লোকদেখানো প্রচার পরিহার করে রাজ্যের জরুরি সমস্যাগুলির দ্রুত বাস্তবসম্মত সমাধান করার জন্য সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস।



















