আগরতলা, ২৯ আগস্ট: জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ধলাই জেলার কমলপুর থানার বামনছড়া পঞ্চায়েতের গুরুচরণ গৌড় পাড়ায় এক যুবককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বাবা ও ভাইদের বিরুদ্ধে। মৃত যুবকের নাম জয় সিং গৌড় (৩৫)। শুক্রবার রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মৃতের বাবা-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টা নাগাদ বাড়ির জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে জয় সিং গৌড়ের সঙ্গে তাঁর বাবা সনু রাম গৌড় (৬৭) এবং বড় ভাই মিঠুন গৌড়ের (৩৯) বচসা হয়। অভিযোগ, সেই সময় জয় সিং গৌড় মদ্যপ অবস্থায় তাঁদের গালিগালাজ করেন এবং এক পর্যায়ে বড় ভাইয়ের ঘরের সামনে গিয়ে মারধরের হুমকি দেন।
এরপর সনু রাম গৌড়, মিঠুন গৌড় এবং খুড়তুতো ভাই হরি চরন গৌড় (৩২) ঘর থেকে বেরিয়ে এসে জয় সিং গৌড়কে লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ। গুরুতর আঘাতের ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর মৃতদেহ সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রথমে মিঠুন গৌড়ের উঠান থেকে মৃতদেহটি জয় সিং গৌড়ের উঠানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বৃষ্টি শুরু হলে মৃতদেহটি একটি বিছানায় শুইয়ে রাখা হয় বলে জানা গেছে। শনিবার সকালে থানায় খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কমলপুর মহকুমা পুলিশ। এসডিপিও সৌরভ সেন, কমলপুর থানার ওসি সুমন আচার্যের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী এবং ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরে ধলাই জেলার পুলিশ সুপার ঋষিকেশ দেশাইও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
ফরেনসিক তদন্তে মৃত জয় সিং গৌড়ের মাথা-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে লাঠি ও রডের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বিমল সিংহ মেমোরিয়াল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে ধলাই জেলার পুলিশ সুপার ঋষিকেশ দেশাই আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং ফরেনসিক দলের কাজও প্রত্যক্ষ করেন। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সনু রাম গৌড়, মিঠুন গৌড় এবং হরি চরন গৌড়কে গ্রেফতার করেছে।
মৃত জয় সিং গৌড়ের স্ত্রী সান্তনা উড়িয়া এবং তিন বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে। পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।



















