কলকাতা, ৩০ আগস্ট (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে আন্তঃসীমান্ত কিডনি পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম রাসেল আহমেদ। শনিবার গভীর রাতে কলকাতার উত্তর শহরতলির বাগুইআটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
রাজ্য পুলিশের এক আধিকারিক জানান, বাগুইআটি এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর এসটিএফের আধিকারিকরা রাসেল আহমেদকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিধাননগর সিটি পুলিশের অধীন বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। রবিবার তাকে উত্তর ২৪ পরগনার একটি জেলা আদালতে পেশ করা হবে। চক্রে তার স্থানীয় সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য জানতে বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, কিডনি পাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৪ সালেও আহমেদকে গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশ। সেই তদন্তে জানা যায়, তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং আধার কার্ড ও প্যান কার্ড-সহ ভারতীয় পরিচয়পত্রও বেআইনিভাবে সংগ্রহ করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে ভাড়াবাড়িতে বসবাস করে কিডনি পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও তদন্তে উঠে আসে।
সম্প্রতি এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে প্রবেশ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় রাসেল আহমেদের নাম সামনে আসে। এরপর তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ভারত ও বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে পরিচালিত আন্তঃসীমান্ত কিডনি পাচার চক্রে আহমেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৮ আগস্ট এক যুবকের বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রবেশ মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অভিযোগ, ওই যুবকের একটি কিডনি নামমাত্র অর্থের বিনিময়ে অস্ত্রোপচার করে বের করে নেওয়া হয়েছিল। তদন্তে উঠে আসে, এই চক্র মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের যুবকদের নিশানা করত।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, চক্রের সদস্যরা চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই যুবকদের অন্য রাজ্যে নিয়ে যেত। সেখানে তাঁদের কিডনি অস্ত্রোপচার করে বের করে নেওয়া হতো এবং বিনিময়ে তাঁদের হাতে সামান্য অর্থ তুলে দেওয়া হতো।
তদন্তের সময় রাসেল আহমেদের কাছ থেকে একটি ‘রেট চার্ট’ উদ্ধার হয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালের কিছু নথিও উদ্ধার করা হয়েছে। ওই নথিগুলিতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলিতে কিডনির প্রয়োজনীয়তার বিবরণ ছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
পুলিশ এখন এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তি, স্থানীয় সহযোগী এবং বিভিন্ন রাজ্য ও বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। —আইএএনএস



















