জয়পুর, ৩১ আগস্ট (আইএএনএস): ২০২৬ সালের জয়পুর পুরনিগম নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে সোমবার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করল বিজেপি। ১৫০টিরও বেশি ওয়ার্ডে প্রার্থী বাছাই করতে গিয়ে দলের মধ্যে টিকিট প্রত্যাশীদের অসন্তোষ এবং নির্দল প্রার্থী হিসেবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের লড়াইয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত বিজেপির রাজ্য দফতরে একের পর এক বৈঠক চলে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা, রাজ্য সভাপতি মদন রাঠোর এবং জয়পুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।
দীর্ঘ আলোচনার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণের ভারসাম্য বজায় রেখে শেষ মুহূর্তে নির্বাচিত প্রার্থীদের হাতে দলের অনুমোদিত ফর্ম-বি এবং প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। বিজেপির প্রার্থী তালিকায় অভিজ্ঞ দলীয় কর্মী, দীর্ঘদিনের নেতাকর্মী, মহিলা মোর্চার পদাধিকারী এবং সম্প্রতি কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রাক্তন কাউন্সিলরদের জায়গা দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রার্থী তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম প্রাক্তন জয়পুর মেয়র জ্যোতি খান্ডেলওয়ালের। একসময় জয়পুরের প্রথম মহিলা মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খান্ডেলওয়ালকে এবার ২০২৬ সালের পুরনিগম নির্বাচনে একটি ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী করেছে বিজেপি।
এর আগে খান্ডেলওয়াল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় তিনি কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন।
একজন প্রাক্তন মেয়রকে ফের ওয়ার্ড স্তরের নির্বাচনে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত জয়পুরের রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চর্চার জন্ম দিয়েছে। কংগ্রেসের ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করে মেয়র হওয়া এবং পরে জয়পুর লোকসভা আসনে প্রার্থী হওয়ার পর দলবদল করে ফের কাউন্সিলর নির্বাচনে লড়াই করছেন তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে তৃণমূল স্তর থেকে নিজের অবস্থান পুনর্গঠনের সুযোগ পেতে পারেন খান্ডেলওয়াল। তাঁর সমর্থকদের দাবি, দল ও শহরের মানুষের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে এটি তাঁর কাছে নতুন সুযোগ।
বিজেপির প্রার্থী তালিকায় আদর্শ নগর বিধানসভা কেন্দ্র-সহ জয়পুরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকার প্রার্থীদেরও রাখা হয়েছে।
ওয়ার্ড ১২১ থেকে ফের প্রার্থী করা হয়েছে নীরজ আগরওয়ালকে। প্রাক্তন কাউন্সিলর আগরওয়াল সম্প্রতি কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য সহ-সভাপতি অনুরাধা মহেশ্বরীকেও টিকিট দেওয়া হয়েছে। তিনি ওয়ার্ড ১০৭ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এদিকে টিকিট বণ্টনকে ঘিরে বিজেপির অন্দরে ব্যাপক প্রতিযোগিতা দেখা দেয়। দলের একাধিক ওয়ার্ডে একটি আসনের জন্য ১০ থেকে ১৫ জন পর্যন্ত শক্তিশালী প্রার্থী টিকিটের দাবিদার ছিলেন বলে জানা গেছে। টিকিট না পাওয়া নেতারা যাতে নির্দল হিসেবে মনোনয়ন জমা না দেন বা বিরোধী দলে যোগ না দেন, সেটাই নেতৃত্বের অন্যতম বড় চিন্তা ছিল।
এই পরিস্থিতিতে দল আগেভাগে সম্পূর্ণ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না করে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমার ঠিক আগে নির্বাচিত প্রার্থীদের হাতে ফর্ম-বি এবং দলীয় প্রতীক তুলে দেয়। বিদ্রোহের সম্ভাবনা কমাতেই এই কৌশল নেওয়া হয় বলে মনে করা হচ্ছে।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এখন বিজেপির নির্বাচনী সংগঠনের সামনে দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ সামলানো এবং ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারে রাজি করানোর চ্যালেঞ্জ।
২ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখের আগে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করানোই দলের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য। একই ওয়ার্ডে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে দলের ভোট ভাগ হয়ে যেতে পারে। তাই পুরনিগম নির্বাচনে ভোট বিভাজন ঠেকানো বিজেপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
—আইএএনএস
























