জয়পুর, ৩১ আগস্ট (আইএএনএস): রাজস্থানের আসন্ন পুরনিগম কাউন্সিলর নির্বাচনের আগে টিকিট বণ্টনকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে এল। আলওয়ারের চারটি মণ্ডলের মধ্যে দু’টির সভাপতি এবং তাঁদের নিজ নিজ কার্যনির্বাহী কমিটির একাধিক সদস্য পদত্যাগ করেছেন। তাঁদের পদত্যাগপত্র বিজেপির জেলা সভাপতি অশোক গুপ্তের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
এই দুই মণ্ডলের অধীনে আলওয়ারের ৬৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে মোট ৩৩টি ওয়ার্ড রয়েছে। শ্রী বিবেকানন্দ মণ্ডলের অধীনে ১৭টি এবং শ্রী কেশব মণ্ডলের অধীনে ১৬টি ওয়ার্ড রয়েছে। এ বিষয়ে বিজেপি জেলা সভাপতি অশোক গুপ্তের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
শ্রী বিবেকানন্দ মণ্ডলের সভাপতি জিতেন্দ্র সিং রাঠোর-সহ কার্যনির্বাহী কমিটির মোট ১৫ জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন।
রাঠোর জানান, তিনি তাঁর স্ত্রী হুকুম কানওয়ারের জন্য ২৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিজেপির টিকিট চেয়েছিলেন। কিন্তু দল ওই আসনে রামাকান্ত যাদবকে প্রার্থী করেছে বলে অভিযোগ। যাদব এর আগে অন্য একটি ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
প্রার্থী বাছাই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাঠোর। তাঁর দাবি, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডটি সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হলেও সেখানে একজন ওবিসি প্রার্থীকে টিকিট দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে শ্রী কেশব মণ্ডলের সভাপতি মহেশ নিহালানি-সহ কার্যনির্বাহী কমিটির আটজন পদাধিকারী জেলা সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, দলের নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে টিকিট বণ্টন করা হয়নি।
পদত্যাগী নেতাদের দাবি, দলের বৈঠকগুলিতে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে মণ্ডল সভাপতি এবং তাঁদের কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেই প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
এদিকে পদত্যাগ করা নেতাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য রাজি করাতে সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত বিজেপির একাধিক নেতা তৎপর ছিলেন বলে জানা গেছে।
রাজ্যের মন্ত্রী সঞ্জয় শর্মার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বিজেপির প্রবীণ নেতা সুরেশ মেহতাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এক পোস্টে তিনি ইঙ্গিত দেন, বিজেপির আর অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতাদের প্রয়োজন নেই। তাঁদের বাড়িতে বসে থাকা উচিত, আর তাঁদের জায়গা নেওয়া উচিত ‘স্বার্থপর ব্যক্তি ও তোষামোদকারীদের’।
আসন্ন পুরনিগম নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে মেহতার এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তিনি তাঁর অসন্তোষের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি।
এদিকে বিজেপি ওবিসি মোর্চার জেলা সাধারণ সম্পাদক বিজেন্দ্র গুর্জরও সাংগঠনিক পদ এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ—দুই পদ থেকেই ইস্তফা দিয়েছেন। জেলা সভাপতির কাছে দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি দলের বর্তমান কার্যপ্রণালী নিয়ে কর্মীদের মধ্যে বাড়তে থাকা অসন্তোষ এবং দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করে আসা তৃণমূল স্তরের কর্মীদের অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন।
গুর্জর বলেন, দলের অনুগত কর্মীদের মর্যাদা ও মতামত যদি সংগঠনের মধ্যে সুরক্ষিত না থাকে, তাহলে সাংগঠনিক পদে থেকে যাওয়ার কোনও যুক্তি নেই।
রাজস্থানের পুরনির্বাচনের আগে প্রার্থী বণ্টনকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরে এই অসন্তোষ দলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
—আইএএনএস



















