কলকাতা, ৩১ আগস্ট (আইএএনএস): কলকাতার ব্যস্ত শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে সোমবার সকালে একটি খাবারের দোকানে আগুন লাগাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহত বা আহত হওয়ার খবর নেই।
সকাল প্রায় ৯টা ২০ মিনিট নাগাদ স্টেশন চত্বর যখন হাজার হাজার যাত্রীর ভিড়ে ঠাসা, তখন একটি খাবারের দোকান থেকে ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষ সেই সময় স্টেশনে উপস্থিত থাকায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে দমকলের তিনটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত দমকল বিভাগের এক আধিকারিক জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার কিছু আগে খাবারের দোকানটি থেকে ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই ধোঁয়া প্রায় গোটা স্টেশন চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং অনেকে চিৎকার করে ছুটোছুটি শুরু করেন। খবর পাওয়ার পর দ্রুত তিনটি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
তিনি জানান, আগুনের প্রকৃত তীব্রতার তুলনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কের মাত্রা বেশি ছিল। তবে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা যথেষ্ট ছিল, কারণ ওই খাবারের দোকানের পাশে একাধিক দোকান ও খাবারের স্টল রয়েছে, যেখানে দাহ্য সামগ্রী মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই প্রথমেই আগুন যাতে অন্যত্র ছড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করাই দমকলের মূল লক্ষ্য ছিল। সেই কাজে তারা সফল হয়েছে বলে জানান তিনি।
দমকল আধিকারিকদের দাবি, যে দোকানে আগুন লেগেছে সেখানে ন্যূনতম অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। পাশাপাশি সেখানে পর্যাপ্ত জল সরবরাহের ব্যবস্থাও ছিল না বলে অভিযোগ।
এক আধিকারিক বলেন, দমকল নিজেদের জল ব্যবহার করেই আগুন নেভানোর কাজ করছে। বাইরে থেকে আপাতত আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছে না। তবে গোটা স্টেশন চত্বর এখনও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন রয়েছে।
শিয়ালদহ স্টেশন কলকাতা ও শহরতলির মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। উত্তর ও দক্ষিণ—দুই শাখার যাত্রীদের আনাগোনায় প্রতিদিনই স্টেশন চত্বরে বিপুল ভিড় হয়। ফলে ব্যস্ত সময়ে এই অগ্নিকাণ্ড ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গে দুটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ছিল বীরভূমের তারাপীঠের একটি হোটেলে, যেখানে ন’জনের মৃত্যু হয়। অন্য ঘটনাটি ঘটে মধ্য কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে, সেখানেও ন’জনের মৃত্যু হয়েছিল।
—আইএএনএস



















