আগরতলা, ৩০ আগস্ট: প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে মাঝে মধ্যে কিছু জটিলতা তৈরি হলেও রাজ্যে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া কোনওভাবেই বন্ধ হবে না। সমস্ত শূন্যপদ ধাপে ধাপে পূরণ করা হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম যাতে অযৌক্তিকভাবে না বাড়ে, সেদিকেও সরকার নজর রাখছে বলে জানান তিনি।
রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ইতিমধ্যেই খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে কোনওভাবেই যাতে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম না বাড়ানো হয়, সে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি নিয়োগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রযুক্তিগত কারণে সাময়িক কিছু সমস্যা দেখা দিলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া থেমে থাকবে না। সম্প্রতি চালক পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর প্রায় ১৬ জনকে নিয়োগের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “নিয়োগ নিয়ে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। যেকোনভাবেই হোক আমরা নিয়োগ করব।” জেল দপ্তর-সহ বিভিন্ন দপ্তরে যে শূন্যপদ রয়েছে, সেগুলিও পূরণ করা হবে বলে জানান তিনি। প্রযুক্তিগত কারণে কখনও কখনও সাময়িক জটিলতা তৈরি হতে পারে, তবে সমস্ত শূন্যপদে নিয়োগ সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির আর্থিক সমস্যা এবং কেন্দ্রের কাছ থেকে আরও আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। শিলংয়ে তাঁর সাম্প্রতিক সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি জানান, সেখানে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের উপস্থিতিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির বিভিন্ন আর্থিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার আর্থিক বোঝা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছে। কেন্দ্র বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পাহাড়ি এলাকা ও বিভিন্ন স্টেশন সংক্রান্ত কয়েকটি প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে অর্থ বরাদ্দের বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তবে প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ যথেষ্ট নাও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানান, রাজ্যের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি কেন্দ্রের কাছে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হবে।



















