নয়াদিল্লি, ৩০ আগস্ট (আইএএনএস): কোনও আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে দেশের যে কোনও থানায় ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করার অধিকার মহিলাদের রয়েছে। এই অধিকার সম্পর্কে আরও বেশি করে সচেতন হওয়ার জন্য মহিলাদের প্রতি আহ্বান জানালেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর।
রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বার্তায় রাহাতকর বলেন, কোনও মহিলার সঙ্গে কোথায় অপরাধ ঘটেছে, তা নির্বিশেষে তাঁর নিকটবর্তী যে কোনও থানায় ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানায় এফআইআর নথিভুক্ত হওয়ার পর মামলাটি যে থানার এলাকায় অপরাধটি ঘটেছে, সেখানে স্থানান্তর করা হয়।
রাহাতকর বলেন, পুলিশ যদি এফআইআর নথিভুক্ত করতে অস্বীকার করে, তাহলে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে মহিলাদের সোচ্চার হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
মহিলাদের ‘জিরো এফআইআর’ দায়েরের পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করতে রাহাতকর তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের সঙ্গে একটি তথ্যপত্রও সংযুক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, কোনও মহিলার বিরুদ্ধে অপরাধ যেখানেই ঘটুক না কেন, তাঁর জন্য সুবিধাজনক যে কোনও থানায় অভিযোগ দায়ের করার সুযোগ রয়েছে।
এর একদিন আগে মহারাষ্ট্রে পঞ্চায়েত এবং নগর স্থানীয় সংস্থাগুলির নির্বাচিত মহিলা প্রতিনিধিদের জন্য আয়োজিত একটি দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন রাহাতকর। জাতীয় মহিলা কমিশনের উদ্যোগে এবং যশবন্তরাও চহ্বাণ অ্যাকাডেমি অব ডেভেলপমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সহযোগিতায় ‘শি ইজ আ চেঞ্জ মেকার’ কর্মসূচির আওতায় এই প্রশিক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
ছত্রপতি সম্ভাজিনগর, জলনা এবং বীড জেলার নির্বাচিত মহিলা প্রতিনিধিরা এই কর্মশালায় অংশ নেন। এর মূল লক্ষ্য ছিল তৃণমূল স্তরের প্রশাসনে মহিলা প্রতিনিধিদের নেতৃত্বদানের দক্ষতা আরও শক্তিশালী করা।
রাহাতকর জানান, ‘শি ইজ আ চেঞ্জ মেকার’ উদ্যোগের আওতায় মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ১২টি প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজন করা হবে। মহারাষ্ট্র সরকারের সহযোগিতায় এবং যশদা-র সমন্বয়ে এই উদ্যোগের প্রথম প্রশিক্ষণ শিবির ছত্রপতি সম্ভাজিনগর থেকে শুরু হয়েছে।
এই প্রশিক্ষণ শিবিরে সরপঞ্চ, জেলা পরিষদের সদস্য, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য এবং পুরসভা ও পুরনিগমের নির্বাচিত প্রতিনিধিসহ ৩০০-রও বেশি মহিলা প্রতিনিধি উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেন।
কীভাবে একজন আদর্শ মহিলা জনপ্রতিনিধি তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন, তাঁর ভূমিকা কী হওয়া উচিত এবং কীভাবে কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তোলা যায়—এই বিষয়গুলি নিয়ে কর্মশিবিরে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রাহাতকর বলেন, একজন নির্বাচিত মহিলা প্রতিনিধির নিজের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। তাঁকে প্রতিটি বৈঠকে সময়মতো এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলি বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
সরকারি তহবিল, নথি, ফাইল এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে ইতিবাচক সমন্বয় বজায় রাখার পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার জন্যও মহিলা জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শ দেন এনসিডব্লিউ চেয়ারপার্সন।
তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে মহিলা জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়মিত বৃদ্ধি করতে হবে। সততা, শৃঙ্খলা এবং জনকল্যাণের মনোভাবকে সামনে রেখে তাঁদের কাজ করতে হবে।
রাহাতকরের মতে, মহিলাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা এবং স্থানীয় স্তরে তাঁদের নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধি—দুই ক্ষেত্রেই এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
________



















