পশ্চিম চম্পারণ, ৩১ আগস্ট (আইএএনএস): প্রতিবেশী নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর ভাল্মিকীনগর গণ্ডক ব্যারাজ থেকে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ায় বিহারের পশ্চিম চম্পারণ জেলার একাধিক নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ১.৮ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ার পর চকদাহওয়া-সহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলিতে জল ঢুকে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বন্যার জেরে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিপর্যস্ত। চকদাহওয়া ও আশপাশের গ্রামের মানুষকে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি খারাপ রাস্তা, বিদ্যুৎ পরিষেবার অভাব এবং দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত সমস্যাও তাঁদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।
গণ্ডক ব্যারাজ থেকে প্রায় ১.৬৪ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ার পর বগহা-২ এলাকার চকদাহা, ঝাউতালা ও বিনটোলির সংযোগকারী প্রধান সড়কটি প্রায় পাঁচ ফুট জলের নিচে চলে যায়। এই রাস্তা ও আশপাশের পরিষেবার উপর প্রায় ৩,০০০ মানুষ নির্ভরশীল। বিশেষ করে চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয় স্থানীয়দের। বর্ষাকালে জলমগ্ন হয়ে পড়ায় সেই যাতায়াতও অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।
এলাকার বাসিন্দা অঞ্জু কুমারী জানান, এক বছরের শিশুকে চিকিৎসকের কাছে দেখাতে তিনি ভেদিহারিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে চকদাহওয়ার বাড়িতে ফেরার সময় তাঁকেও জল পেরিয়ে আসতে হয়। প্রতি বর্ষায় একই সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “পুরো বর্ষাকাল জুড়েই আমাদের জলের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হয়। এটা খুব বড় সমস্যা। কিন্তু আমরা কীই বা করতে পারি?” সরকারের কাছে দ্রুত রাস্তা নির্মাণের আবেদন জানান তিনি।
চক দাওয়ার বাসিন্দা সুরজ কুমার বলেন, “পরিস্থিতি খুব খারাপ। শহরে যেতে তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। রাস্তা ভালো হলেও অনেক সমস্যা রয়েছে। আমাদের গলা পর্যন্ত জলের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হয়।”
আর এক বাসিন্দা হাসলিম গাদ্দি জানান, বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাঁর কথায়, “পরিস্থিতি খুব খারাপ। তিন কিলোমিটার পথ জলের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। রাস্তা ভালো নয়, আলোও নেই। আমাদের সমস্যার দিকে কেউ নজর দেয় না। বহু বছর ধরে আমরা এই সমস্যার মুখোমুখি।”
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল আনসারিও বর্ষাকালে গভীর জল পেরিয়ে যাতায়াতের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি এলাকাটি ভাল্মিকী টাইগার রিজার্ভের মধ্যে হওয়ায় বন্যপ্রাণীর আতঙ্কও রয়েছে বলে জানান তিনি। আনসারির কথায়, “পরিস্থিতি খুব খারাপ। আমাদের জল পেরোতে হয়। তিন মাস ধরে প্রায় ছয় ফুট গভীর জলের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। ভাল্মিকী টাইগার রিজার্ভের অংশ হওয়ায় বন্যপ্রাণীরও সবসময় ভয় থাকে।”
এদিকে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ ও নিচু এলাকায় বসবাসকারী ৫,০০০-এরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।
বিহারের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলিতেও বন্যা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। জলস্তর বাড়লে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
বিহার সরকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলার আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি আতঙ্কিত না হওয়ার এবং বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কোনও ধরনের গুজব ছড়ানো বা গুজবে বিশ্বাস না করার জন্যও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।
—আইএএনএস



















