গুয়াহাটি, ৩১ আগস্ট (আইএএনএস): শিলচরে অসম সচিবালয় স্থাপনের ফলে বরাক উপত্যকার মানুষের কাছে প্রশাসন আরও সহজলভ্য হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরের পরিষেবা পেতে তাঁদের আর গুয়াহাটিতে ছুটে যেতে হবে না বলে জানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে চলে আসা প্রশাসনিক দূরত্ব কমবে এবং দক্ষিণ অসমের মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “বরাক উপত্যকার মানুষকে প্রশাসনের কাজের জন্য আর গুয়াহাটিতে যেতে হবে না। প্রশাসন এখন তাঁদের আরও কাছে পৌঁছে গিয়েছে।”
তিনি জানান, শিলচরের অসম সচিবালয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সরকারি দফতর থাকবে। এর ফলে বরাক উপত্যকার বাসিন্দারা সরকারি কাজের জন্য রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটি যাওয়ার পরিবর্তে নিজেদের কাছাকাছি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
এই উদ্যোগকে প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ এবং অসমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে সরকারি পরিষেবার পরিধি আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বরাক উপত্যকার অন্তর্ভুক্ত কাছাড়, হাইলাকান্দি এবং শ্রীভূমি জেলা ঐতিহাসিকভাবে গুয়াহাটি থেকে ভৌগোলিকভাবে অনেকটা দূরে। সরকারি কাজের জন্য এই এলাকার বাসিন্দাদের প্রায়ই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গুয়াহাটি যেতে হয়। শিলচরে সচিবালয়ের পরিকাঠামো গড়ে ওঠায় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় আরও উন্নত হবে এবং গুয়াহাটিতে বারবার যাতায়াতের প্রয়োজন কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত কয়েক বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গুয়াহাটির বাইরে প্রশাসনিক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার এবং অসমের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি পরিষেবা সহজলভ্য করার উপর জোর দিয়ে আসছেন।
শিলচরের এই উদ্যোগের ফলে দক্ষিণ অসমে প্রশাসনের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দফতর এবং স্থানীয় অংশীদারদের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ ও সমন্বয়ও সম্ভব হবে।
অসম সরকার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক পরিষেবা সম্প্রসারণের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তারই অংশ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারি পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন দফতরের পরিষেবা পেতে এই অঞ্চলের আধিকারিক ও সাধারণ মানুষ উভয়েই উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের দাবি, প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে নিয়ে এলে সরকারি কাজের দক্ষতা, প্রশাসনের দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা এবং জনকল্যাণ ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়বে।
শিলচরে অসম সচিবালয় স্থাপনের মাধ্যমে বরাক উপত্যকার সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের আরও সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক পরিষেবা সহজলভ্য করার দাবিও পূরণ হবে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার।
—আইএএনএস
























