আগরতলা, ৩১ আগস্ট: ইলেকট্রনিক অটো ও অটো রিকশা পরিবহন শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং পরিবহন শিল্পের স্বার্থে সাত দফা দাবি জানিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হল ত্রিপুরা ইলেকট্রনিক রিকশা শ্রমিক সমিতি। ভারতীয় মজদুর সংঘের (বিএমএস) ত্রিপুরা প্রদেশের অনুমোদিত এই সংগঠনের পক্ষ থেকে সোমবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সংগঠনের প্রতিনিধিরা ট্রাফিক পুলিশের এসপি কিশোর দেববর্মার কাছেও ডেপুটেশন প্রদান করেন।
সংগঠনের দাবি, ইলেকট্রনিক অটো ও অটো রিকশা পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার শ্রমিক বর্তমানে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা, অতিরিক্ত জরিমানা, পারমিট সংক্রান্ত সমস্যা এবং পরিবহন ভাড়া নিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শ্রমিকদের আর্থিক পরিস্থিতিও সংকটের মধ্যে রয়েছে বলে দাবি সংগঠনের।
এই পরিস্থিতিতে পরিবহন শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা এবং জীবন-জীবিকার স্বার্থে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
সংগঠনের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে, পারমিটবিহীন ইলেকট্রনিক অটো রিকশার ক্ষেত্রে মোটর ভেহিকেল আইন অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। পাশাপাশি অটোসহ অন্যান্য যানবাহনের বিরুদ্ধে হওয়া অপ্রয়োজনীয় মামলা ও জরিমানা দ্রুত লোক আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে ছবি তুলে অযথা জরিমানা করার প্রক্রিয়া বন্ধ করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠন। একইসঙ্গে বটতলা এলাকায় চলাচলের রাস্তার মাঝখানে থাকা ময়লা-আবর্জনার ডাস্টবিনগুলি দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের অভিযোগ, রাস্তার মাঝে ডাস্টবিন থাকায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় বন্ধ বা নষ্ট হয়ে থাকা ট্রাফিক সিগন্যাল দ্রুত মেরামত এবং জেব্রা ক্রসিংয়ের চিহ্নগুলি যথাযথভাবে পুনরায় চিহ্নিত করার দাবিও জানানো হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থার অব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ সংগঠনের।
এছাড়াও ত্রিপুরার বিভিন্ন শহর, শহরতলি ও নাকা পয়েন্টে অটোচালক ও পরিবহন শ্রমিকদের অযথা হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অনিয়মিতভাবে জরিমানা আদায় বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন ও বিধি অনুযায়ী স্বচ্ছ ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে মত প্রকাশ করেছে সংগঠন।
যানজট নিরসন ও সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে ৬, ১০, ১২ ও ১৬ চাকার ভারী যানবাহন পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবিও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবহন শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধান না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন তাঁরা। তাই প্রশাসনের কাছে সাত দফা দাবি দ্রুত বিবেচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।






















