ঢাকা, ৩১ আগস্ট (আইএএনএস): তীব্রতর জ্বালানি সংকটের মধ্যে আগস্টে বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহ কোভিড মহামারির শুরুর দিকের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। এর ফলে দেশের শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা কার্যত অচল হওয়ার মুখে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে।
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি আগস্টে দেশে দৈনিক গড় গ্যাস সরবরাহ ছিল ২,২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট। আগস্ট মাসের হিসেবে গত এক দশকে এটিই সর্বনিম্ন সরবরাহ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারী কাতার বর্তমানে চুক্তিবদ্ধ পরিমাণে এলএনজি সরবরাহ করছে না। ফলে ঢাকাকে ক্রমশ স্পট মার্কেটের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
তবে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সংগ্রহ করাও ক্রমশ কঠিন এবং ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এর ফলে বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি আরও বেড়েছে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।
চলতি মাসে সংকটের চূড়ান্ত পর্যায়ে দেশে প্রতি ঘণ্টায় গড় বিদ্যুৎ ঘাটতি প্রায় ৩,০০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল। গ্যাসের অভাবে কয়েক ডজন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেনি।
রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড ১৬,২৭৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১২,৬৮৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পেরেছে।
দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও প্রায় ৫,০০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। অথচ এই ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলির মোট স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা অন্তত ১২,০০০ মেগাওয়াট।
গ্যাসের চাপ অপর্যাপ্ত থাকায় এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে বাংলাদেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলির কারখানাগুলিও উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক কারখানা অত্যন্ত কম ক্ষমতায় কাজ করছে বলে ‘দ্য ডেইলি স্টার’ জানিয়েছে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সভাপতি ফাজলি শামিম এহসান পরিস্থিতির গভীরতা তুলে ধরে বলেন, কারখানা বন্ধের বিষয়টি সরলভাবে ব্যাখ্যা করা কঠিন। কারণ প্রতিদিন উৎপাদনের মাত্রায় ব্যাপক ওঠানামা হচ্ছে। কোনও কোনও দিন উৎপাদন শূন্যে নেমে যাচ্ছে, আবার কোনও দিন তা মাত্র ২০ শতাংশের কাছাকাছি থাকছে।
ফাতুল্লা অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসান আরও বলেন, প্রায় প্রতিটি কারখানাই কমবেশি গ্যাস সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কতগুলি কারখানা বন্ধের মুখে পড়তে পারে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ না হলে বহু কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এমডি শাহাব উদ্দুজা চৌধুরীর মতে, গ্যাস সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলিতে উৎপাদন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছে।
‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজিএমইএ-র সদস্য কারখানাগুলিতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এলে উৎপাদন ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে বহু কারখানা লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।



















