নয়াদিল্লি, ৩১ আগস্ট (আইএএনএস): ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ঘোষিত ৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবাদ মিছিল বন্ধ করার বিষয়ে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে সোমবার অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এই মুহূর্তে এমন কোনও জোরালো কারণ নেই যার ভিত্তিতে ধরে নেওয়া যায় যে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি. মোহনার বেঞ্চ প্রস্তাবিত মিছিলের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে নোটিস জারি করেছে। তবে ৫ সেপ্টেম্বরের আগে মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করতে রাজি হয়নি আদালত।
বিষয়টির বিস্তারিত শুনানি আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ছাত্র বিক্ষোভ সংক্রান্ত অন্যান্য বিচারাধীন মামলার সঙ্গে হবে। অবসরপ্রাপ্ত দিল্লি পুলিশ আধিকারিক রাজেন্দ্র সিং এই আবেদনটি দায়ের করেন। সংবেদনশীল এলাকায় প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া বড় ধরনের বিক্ষোভ বা মিছিল আয়োজনের বিরুদ্ধে নির্দেশ চেয়েছিলেন তিনি।
আবেদনকারীর হয়ে আইনজীবী রিজওয়ান আহমেদ প্রস্তাবিত মিছিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ৫ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়া গেট থেকে নয়াদিল্লি পুলিশ সদর দফতর পর্যন্ত মিছিলের ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানীতে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনের পরিপ্রেক্ষিতে এই মিছিল নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
আইনজীবী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিছিলের ঘোষণা করা হয়েছে এবং তাঁর জানা অনুযায়ী আয়োজকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনও অনুমতি নেননি। অনুমতি ছাড়া কীভাবে এই ধরনের বিক্ষোভ হতে পারে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে ঘিরে কোনও অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে আগাম ধরে নিতে রাজি হয়নি।
আদালত পর্যবেক্ষণ করে, “এই মুহূর্তে আমরা ধরে নেব এবং সন্দেহ করার কোনও কারণ নেই যে প্রত্যেকে দায়িত্বশীলভাবে এবং শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে আচরণ করবেন। তাই এখন এমন কোনও জোরালো পরিস্থিতি নেই যার ভিত্তিতে আমরা ধরে নেব যে কোনও ভুল ঘটবে।”
সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব মূলত পুলিশের। আবেদনকারীকে তাঁর অভিযোগ ও আশঙ্কা নিয়ে কেন্দ্রের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।
বেঞ্চ বলে, “আমরা এমন কাউকে ডাকছি না, যিনি এই মামলার পক্ষ নন। কেন্দ্রের কাছে যান।”
তবে আবেদনকারীর আইনজীবী ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত মিছিলের আগে জরুরি শুনানির দাবি জানান। তিনি বলেন, আয়োজকদের পক্ষভুক্ত করা সম্ভব নয়, কারণ সিজেপি-র কোনও নথিভুক্ত কার্যালয় বা লেটারহেড নেই। অনুমতি ছাড়া কীভাবে বিক্ষোভ করা যায়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তবে বেঞ্চ আয়োজকদের পদক্ষেপ আগাম রোধ করার বিষয়ে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। আদালত জানায়, আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টি কেন্দ্র ও দিল্লি কর্তৃপক্ষকেই নিশ্চিত করতে হবে।
সিজেপি সম্প্রতি ৫ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়া গেট থেকে নয়াদিল্লি পুলিশ সদর দফতর পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলের ঘোষণা করেছিল। দলের অভিযোগ, ২৫ জুলাই তরুণদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে কেন্দ্র ব্যর্থ হয়েছে।
দলের দাবি, মৃত নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবার এবং কথিত পুলিশি নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার এই মিছিলে নেতৃত্ব দেবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রী ও তরুণরাও মিছিলে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছিল সিজেপি।
দলের অভিযোগ, সরকার যুবসমাজকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দেরি করছে এবং সুপ্রিম কোর্টের সামনেও বিষয়গুলি নিয়ে স্পষ্ট আশ্বাস দেয়নি।
সিজেপি ১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টে হওয়া শুনানির কথাও উল্লেখ করেছিল। তাদের দাবি, দেশজুড়ে নথিভুক্ত এফআইআরগুলির তালিকা বারবার চেয়েছে শীর্ষ আদালত, যাতে সেগুলি সম্মিলিতভাবে খারিজ করার বিষয়টি বিবেচনা করা যায়।
দলের আরও অভিযোগ, এই বিষয়ে সরকার কোনও স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি এবং সংগঠনকে দেওয়ার কথা বলা লিখিত আশ্বাসও এখনও পাওয়া যায়নি।
সিজেপি বলেছিল, তারা ‘জেন-জি’ প্রজন্ম এবং সন্তান হারানো পরিবারগুলির সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র প্রতিবাদে ফের রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছে।
দলটি ছাত্র, যুব সংগঠন এবং তরুণ নাগরিকদের ইন্ডিয়া গেটে জমায়েত হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এখন ১০ সেপ্টেম্বর ছাত্র বিক্ষোভ সংক্রান্ত অন্যান্য বিচারাধীন মামলার সঙ্গে এই আবেদনটির বিস্তারিত শুনানি করবে সুপ্রিম কোর্ট।


















