নয়াদিল্লি, ৩১ আগস্ট (আইএএনএস): ভারতে গড়ে ওঠা সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম আগামী দিনে ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
সোমবার ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বৈষ্ণব জানান, গত ১০ বছরে ৮৫ হাজার সেমিকন্ডাক্টর ইঞ্জিনিয়ার তৈরির লক্ষ্যমাত্রা মাত্র চার বছরেই পূরণ করেছে ভারত। এবার আরও এক লক্ষ ইঞ্জিনিয়ার তৈরির নতুন লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরে বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বাজারের প্রায় ১০ শতাংশ ভারতে তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দেশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির শহরের পড়ুয়ারা ২৫০টিরও বেশি চিপ ডিজাইন করেছেন।
বৈষ্ণব জানান, একাধিক প্রকল্পে অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে দ্রুততার নজিরও তৈরি হয়েছে। কোনও একটি প্রকল্পে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাত্র ১৩ মাসের মধ্যেই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। আবার বিভিন্ন প্রকল্পে ২০০ দিন, ১৫০ দিন এমনকি ৯০ দিনের মধ্যেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন ও উৎপাদন ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে সরকার ‘সেমিকন ২.০’ প্রকল্পের ছয়টি স্তম্ভের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। প্রথম ‘সেমিকন ইন্ডিয়া প্রোগ্রাম’-এর সাফল্যের ভিত্তির ওপর তৈরি এই প্রকল্পে চিপ ডিজাইন থেকে শুরু করে ফ্যাব্রিকেশন, প্যাকেজিং, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং দক্ষতা তৈরির মতো সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক ও পরিকাঠামোগত সহায়তা দেওয়া হবে।
‘সেমিকন ২.০’-এর ছয়টি মূল স্তম্ভ হল—চিপ ডিজাইন, মেশিন ও উপকরণ, আরও ফ্যাব স্থাপন, এটিএমপি/ওএসএটি শিল্পকে আরও শক্তিশালী করা, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি।
এই প্রকল্পের আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলির সাধারণত ছয় বছর পর্যন্ত সময়সীমা থাকবে। প্রাথমিকভাবে তিন বছর পর্যন্ত এই প্রকল্পে আবেদন গ্রহণ করা হবে।
ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ‘সেমিকন ২.০’-এর নোডাল সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। আবেদন গ্রহণ, প্রযুক্তিগত ও আর্থিক মূল্যায়ন, আবেদনকারীদের সুপারিশ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের তদারকির দায়িত্ব থাকবে আইএসএম-এর ওপর।
সি-ডিএসি-এর সহায়তায় আইএসএম ডিজাইন ও ডিপ্লয়মেন্ট সংক্রান্ত বিভাগগুলি বাস্তবায়ন করতে পারবে। পাশাপাশি, বিশেষায়িত উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে ২০২৬ সাল থেকে সেমিকন্ডাক্টর ডিপ-টেক পুরস্কার চালু করার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক আর্থিক সহায়তার জন্য বাজেট বরাদ্দ করবে। অনুমোদিত শর্ত অনুযায়ী নোডাল সংস্থার মাধ্যমে সেই অর্থ বিতরণ করা হবে।
প্রকল্পটির তিন বছর বাস্তবায়নের পর মধ্যবর্তী মূল্যায়ন করা হবে। প্রয়োজনে তার আগেও মূল্যায়ন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে প্রকল্পের প্রভাব পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন, সম্প্রসারণ বা ধারাবাহিকতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



















