মুম্বই, ৩১ আগস্ট (আইএএনএস): বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর ২০২৬-এর সময় ‘অসংগ্রহযোগ্য গণনা ফর্ম হিসেবে চিহ্নিত মহারাষ্ট্রের ২.০৭ কোটি ভোটারের নাম স্থায়ীভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি বলে সোমবার স্পষ্ট করলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এস. চোক্কালিঙ্গম।
তিনি জানান, মহারাষ্ট্রের মোট ৯.৭৮ কোটি ভোটারের ২১.১৫ শতাংশকে এই শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। তবে এর অর্থ সরাসরি তাঁদের নাম স্থায়ীভাবে ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা নয়; বরং তাঁরা খসড়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি।
চোক্কালিঙ্গম ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “প্রত্যেক ভোটারকে খসড়া ভোটার তালিকা পরীক্ষা করার আবেদন জানাচ্ছি। শুধু রাজ্যস্তরের পরিসংখ্যান দেখবেন না। নিজের নাম তালিকায় রয়েছে কি না এবং তথ্য সঠিক কি না, তা যাচাই করুন। নাম না থাকলে অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করুন। কোনও ভুল থাকলে সংশোধনের আবেদন করুন।”
তিনি আরও জানান, কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে সমস্যা থাকলে পুনরায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ফর্ম ৬ জমা দেওয়া যেতে পারে। খসড়া তালিকাই চূড়ান্ত তালিকা নয়। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে দাবি ও আপত্তি জানানোর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া থাকবে।
চোক্কালিঙ্গমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২.০৭ কোটি ‘অসংগ্রহযোগ্য গণনা ফর্ম’-এর মধ্যে ৭৫.৫২ লক্ষ ভোটার অনুপস্থিত বা তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি, ৭৬.৮০ লক্ষ ভোটার স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন, ৩৪.৮১ লক্ষ ভোটার মৃত, ১৭.৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম অন্যত্র নথিভুক্ত বা ডুপ্লিকেট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং ২.২৩ লক্ষ ক্ষেত্রে অন্যান্য কারণ রয়েছে।
জেলা কালেক্টরদের ওয়েবসাইটে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলির বুথ-স্তরের এজেন্টদেরও তালিকার কপি দেওয়া হয়েছে, যাতে নাগরিকরা নিজেদের নাম যাচাই করতে পারেন।
এসআইআর প্রক্রিয়াটি একাধিক ধাপে সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানিয়ে চোক্কালিঙ্গম বলেন, এই পর্যায়ে ১০০ শতাংশ নির্ভুলতার দাবি করা হচ্ছে না। বুথ লেভেল অফিসারদের প্রত্যেক ভোটারের বাড়িতে অন্তত একবার যাওয়ার কথা ছিল। ভোটারকে না পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ তিনবার পর্যন্ত যাওয়ার নির্দেশ ছিল। সেই পরিদর্শনের ফলাফলের ভিত্তিতেই বিভিন্ন শ্রেণিতে ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘অনুপস্থিত/অশনাক্তযোগ্য’ বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে যাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি এবং বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য নেই। ‘স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত’ শ্রেণিতে তাঁদেরই রাখা হয়েছে, যাঁদের অন্যত্র স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। ‘মৃত’ শ্রেণি সরকারি নথি, মৃত্যুর শংসাপত্র অথবা পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্য কোনও নির্বাচনী কেন্দ্রে একই ভোটারের নাম থাকলে তাঁকে ‘অন্যত্র নকল/নিবন্ধিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রকাশিত অস্থায়ী তালিকা বিএলও-দের যাচাই করার পাশাপাশি যোগ্য ভোটারদের প্রয়োজনে ফর্ম ৬ বা ফর্ম ৮ জমা দিতে সহায়তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাস্তব ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে বলেও স্বীকার করেন চোক্কালিঙ্গম। তাঁর মতে, কিছু প্রকৃত ভোটার ভুলবশত ‘অনাদায়ী ফর্ম’-এর তালিকায় চলে যেতে পারেন। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে বহু বাসিন্দা সন্ধ্যা ৭টা বা ৮টার পর বাড়ি ফেরেন এবং সাধারণ কর্মঘণ্টায় তাঁদের বাড়িতে পাওয়া যায় না। আবার অনেক বিএলও মহিলা হওয়ায় গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করাও সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, “এই কারণেই আমি স্পষ্ট করছি যে এই প্রক্রিয়ার একাধিক ধাপ রয়েছে এবং খসড়া পর্যায়ে আমরা সম্পূর্ণ নির্ভুলতার দাবি করছি না। ৩১ আগস্ট প্রকাশিত তালিকাটি শুধুমাত্র একটি খসড়া। কেউ কোনও ভুল দেখতে পেলে তা সংশোধন করা যাবে।”
প্রত্যেক ভোটারকে নিজেদের নাম ও তথ্য খসড়া তালিকায় যাচাই করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি শুধু কয়েকজন আধিকারিকের দায়িত্ব নয়; সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রত্যেক ভোটারেরই তালিকা পরীক্ষা করা উচিত।



















