কাঠালিয়া , ১৭ জুলাই: যাত্রাপুর থানাধীন বাঁশপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গরু চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁশপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা ছেরু মিয়ার গোয়ালঘর থেকে একটি গাভী চুরি হয়ে যায়। গোয়ালঘরে গাভীর একটি ছোট বাছুর রেখে যাওয়ায় সেটি ক্রমাগত ডাকতে শুরু করলে গাভীর মালিকের সন্দেহ হয়। পরে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখা যায়, গাভীটি নেই।
এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একসময় যাত্রাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার শালপুকুর সীমান্ত সংলগ্ন কাঁটাতারের বেড়ার কাছে গাভীসহ এক ব্যক্তিকে দেখতে পান তারা।
অভিযোগ, ওই ব্যক্তি নিজের নাম দেলোয়ার হোসেন বলে পরিচয় দেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় গরু চুরির বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
এরপর উত্তেজিত গ্রামবাসী অভিযুক্তকে আটক করে মারধর করেন এবং খবর দেন যাত্রাপুর থানায়। খবর পেয়ে এএসআই তপন দেবনাথের নেতৃত্বে পুলিশ ও টিএসআর জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। উদ্ধার করা হয় চুরি যাওয়া গাভীটিও। পরে শারীরিক পরীক্ষা করানোর জন্য অভিযুক্তকে কাঠালিয়া সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে যাত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পার্থনাথ ভৌমিক প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, গরুর মালিক ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, গত এক মাসে ওই এলাকায় অন্তত ছয়টি পরিবারের একাধিক গরু চুরি হয়েছে এবং সেগুলি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচার করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ধৃত ব্যক্তি এই চুরির ঘটনাগুলির সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারেন। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা পুলিশি নিশ্চিতকরণ এখনও মেলেনি।
স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, গত এক মাসে ইমাম হোসেন, সালামত উল্লা, মোহাম্মদ মোস্তফা, নাসির মিয়া এবং কামাল হকের পরিবারের একাধিক গরু চুরি হয়েছে।
এদিকে, গরুর মালিক যাত্রাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
























